আন্দোলন ছিল সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে, শেষ পর্যন্ত রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতন। শুরুতে শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরিস্থিতি কেন সংঘাতময় হয়ে উঠল, এই প্রশ্নে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকরা আওয়ামী লীগ শাসনামলে সুশাসন নিশ্চিত করতে না পারা, নির্বাচন ব্যবস্থা প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া, দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ক্ষমতার অপ্রয়োগসহ নানা কারণের কথা তুলে ধরছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের দপ্তর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে যে প্রতিবেদনে দিয়েছে, তাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত বল প্রয়োগ ছাড়াও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, গণতান্ত্রিক পরিসরের সংকোচন, দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক অসন্তোষের কথা উল্লেখ করা হয়। সংস্থাটি বলছে গণঅভ্যুত্থানে অধিকাংশ বেসামরিক মানুষ হতাহত নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতেই হন। কিছু ক্ষেত্রে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের খুব…
Author: শাহরিয়ার মাহী
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পরও দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাজনৈতিক ‘ট্যাগিং’ বা তকমা দেওয়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ থেকে ছিটকে পড়ছেন, শিক্ষকদের মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হচ্ছে, সংগঠিত হয়রানির শিকার হচ্ছেন নারী আন্দোলনকারীরা। ‘ট্যাগিং’-এর নাম বদলালেও প্রয়োগের পদ্ধতি রয়ে গেছে আগের মতোই। কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক তদন্ত, প্রমাণ বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ঢালাওভাবে ‘ফ্যাসিস্ট’, ‘আওয়ামী লীগপন্থী’, ‘জুলাই-বিরোধী’ বা রাজনৈতিকভাবে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। অনেকের জন্য এ ধরনের ‘ট্যাগিং’ পাওয়ার অর্থ হলো ক্যাম্পাস থেকে বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়া, সহিংস হুমকির মুখে থাকা, পরীক্ষায় বসতে না পারা, পেশাগতভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং সাইবার বুলিং বা অনলাইন হয়রানির…
ফেসবুকে একটি টক শো। অংশগ্রহণকারীদের একজন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতা মনিরুল ইসলাম রবি। তিনি আক্ষেপ করছিলেন বাংলাদেশের জন্ম নিয়ে। বলছিলেন, ‘যদি আমরা পাকিস্তান থাকতাম তাহলে আমরা এখন পারমাণবিক শক্তির মালিক থাকতাম। সারা পৃথিবী আমাদেরকে স্যালুট দিত।’ মুক্তিযুদ্ধের পাঁচ দশক পর, যখন অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য অবকাঠামোসহ মানব উন্নয়ন সূচকের প্রায় সব দিকেই পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে, এমন সময় দুই বছর ধরে এই বিএনপি নেতার মতোই আরও অনেকে বলার চেষ্টা করছেন, পাকিস্তান ‘ভাঙা’ ঠিক হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর এই ‘পাকিস্তান পন্থা’র উত্থান নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা আছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তো বটেই, সংবাদ মাধ্যমের টক শোতে এসেও রবির মতো…
জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশে তৈরি হওয়া নিরাপত্তাহীনতা ও বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে কুখ্যাত অপরাধী চক্রগুলো আবার নিজেদের আস্তানা দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন দেশজুড়ে ১৭টি কারাগারে একযোগে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সেই সুযোগে দুর্ধর্ষ সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিসহ অন্তত দুই হাজার ২০০ কয়েদি জেল ভেঙে পালিয়ে যায়। কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পালিয়ে যাওয়াদের মধ্যে ১১ জন শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং ৭০ জন দণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিসহ প্রায় ৭০০ জন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। আইনশৃঙ্খলার ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে আদালত থেকে জামিন পাওয়া আরও ১৭৪ জন সন্ত্রাসী। আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে এদেরকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় কারা কর্তৃপক্ষ। তবে সবচেয়ে…
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতীক শহীদ আবু সাঈদ দুই হাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, হাতের লাঠিতে একটি গিরগিটি। এক কাঁধে অস্ত্রধারী ধূসর মানুষের মারামারি, মদপানরত হেলমেটধারী চরিত্র ও খুলির স্তূপ; অন্য কাঁধে সাদা পাঞ্জাবি পরা ব্যক্তি টাকার বস্তায় বসা। নিচে দানবাকৃতির চরিত্র, হিংসাত্মক ভাষা, সহিংসতা ও ঝুলন্ত নারীর অবয়ব। তবে আবু সাঈদের চোখে বিজয়ের আনন্দ নেই, আছে ক্লান্তি ও বিব্রতবোধ। যেন তিনি নিজেই প্রশ্ন করছেন—আত্মত্যাগের বিনিময়ে কী অর্জিত হলো? তার কাঁধে চেপে বসেছে নতুন বাস্তবতার ভার—ক্ষমতার দখলদারিত্ব, মব সহিংসতা, চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য, অর্থের প্রভাব, সুবিধাবাদ, নারী নির্যাতন, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি। ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ-এর কার্টুনিস্ট মেহেদী হকের এই কার্টুন নিয়ে সামাজিক…
আইএফআইসি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনিয়মের গল্পটি যেন একটি রিলে রেসের মতো। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিতর্কিত ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমানের হাতে থাকা ব্যাটনটি তুলে দেওয়া হয়েছিল একটি নতুন পরিচালনা পর্ষদের কাছে। কিন্তু হাতবদল হলেও অনিয়মের একই ধারা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দুটি তদন্ত প্রতিবেদন, আইএফআইসি ব্যাংকের দুটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন, পর্ষদ সভার কার্যবিবরণী, পেমেন্ট ভাউচার, ভিডিও রেকর্ড এবং ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’-এর অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা ও বিতর্কিত ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমানের প্রভাব থেকে আইএফআইসি ব্যাংককে মুক্ত করতে এর পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব তদন্তেই…
কারও কোলে ক্ষুধার্ত ও আতঙ্কিত ছোট্ট শিশু, কারও হাতে জীবনের শেষ সম্বলটুকু। চারদিকে শুধু থৈ থৈ পানি। এই সর্বগ্রাসী রূপের মাঝে সবাই হন্যে হয়ে খুঁজছেন একটুকরো শুকনো মাটি আর একটু নিরাপদ আশ্রয়। কোথাও আশি বছরের বৃদ্ধ বাবাকে পিঠে নিয়ে অসহায় সন্তানের আকুতি, আবার কোথাও দুই বছরের নিষ্পাপ শিশুকে দাফন করার মতো এক চিলতে শুকনো জমিও মিলছে না। টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল আর উজানের পানির তোড়ে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তৈরি হয়েছে এক প্রলয়ংকরী দুর্যোগ। চট্টগ্রাম বিভাগজুড়ে জনজীবন এখন কার্যত অচল। বন্যা, জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধস আর সড়ক বিচ্ছিন্নতায় লাখ লাখ মানুষ এখন প্রকৃতির কাছে জিম্মি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ…
সারা দেশে আবহাওয়া এখন আর স্বাভাবিক গ্রীষ্মকালের মতো নেই। চারপাশের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, সবাই যেন কোনো এক অদৃশ্য চুল্লির ভেতর বাস করছে। সকাল হতেই চারপাশ গুমোট হয়ে ওঠে, দুপুরে রোদের তাপে বাইরে বের হওয়াই দায়, আর সূর্য ডোবার পরও কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি মিলছে না। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞ—সবার মনে এখন একটাই প্রশ্ন: এ বছরের গরম কেন এত অসহ্য? আবহাওয়া ও নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দমবন্ধ করা গরমের পেছনে কোনো একটি একক কারণ নেই, বরং একসঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেকগুলো কারণ। বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প বা আর্দ্রতা, কংক্রিটের ভবন ও পিচঢালা রাস্তা থেকে তাপ বের হওয়া, গতিহীন বাতাস, শহরের ভেতরের…
রাজধানীতে বেসরকারি মালিকানাধীন বাসগুলোর ২০ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সরকার সেগুলো সড়ক থেকে পুরোপুরি সরাতে পারছে না। অথচ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) অনেক বাসই ৬ থেকে ৮ বছরের মধ্যেই অচল হয়ে পড়ছে। বিআরটিসির বহরের বড় অংশ কেনা হয়েছে বিদেশি ঋণের অর্থে। কিন্তু দ্রুত অকেজো হয়ে যাওয়ায় এসব বাস থেকে প্রত্যাশিত আয় আসছে না। ফলে ঋণ পরিশোধের চাপও বাড়ছে। ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে কেনা ১ হাজার ৫৫৮টি বাসের মধ্যে ৩৪৩টিকে ইতোমধ্যে ‘বিয়ন্ড ইকোনমিক রিপেয়ার’ বা অর্থনৈতিকভাবে মেরামত-অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে চালু রয়েছে ১ হাজার ১০২টি বাস, আর ৬৪টি রয়েছে ভারী মেরামতের মধ্যে। ২০১৫ সালে…
মুস্তাফা মনোয়ার। বাংলাদেশের চিত্রকলা, চলচ্চিত্র, নাটক, সঙ্গীত, পাপেট-সর্বোপরি শিল্পকলার প্রায় সকল অঙ্গণে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একজন সাংস্কৃতিক যোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধকালে ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশ প্রবাসী সরকারের সাংস্কৃতিক দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন বিভিন্ন সময়। সারা জীবন প্রগতিশীল সংস্কৃতির এই যোদ্ধা ৯০ বছর বয়সে চেলে গেছেন না ফেরার দেশে। শেষ জীবনে অসুস্থতায় কাটিয়েছেন দীর্ঘ সময়। অসুস্থতার মাঝেও গত ২৫ মার্চ টাইমস অব বাংলাদেশে’ন প্রতিবেদক শাহরিয়ার মাহীকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। বলেছেন নিজের জীবনের বিভিন্ন অধ্যায়ের কথা, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মুক্তিযোদ্ধাদের হেনস্থার খবরে তাঁর হতাশার কথা। সেই সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছেন শাহরিয়ার মাহী। ষাটের দশকে সদ্য চালু হওয়া পাকিস্তান টেলিভিশনে…

