বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু দৃশ্য চেনা ছকে ফিরে আসে। হলুদ-সবুজ জার্সিতে ব্রাজিল সমর্থকদের চোখ-মুখে আশা ও বুকভাঙা বেদনার ছবি, আর ঠিক তার পাশেই ট্রল বা রসিকতা হিসেবে হাজির করা হয় কোমল পানীয় ‘সেভেনআপ’-এর একটি বোতল। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ব্রাজিলের সেই ঐতিহাসিক ৭–১ গোলের পরাজয়ের পর থেকে এই কোমল পানীয়টির নাম ফুটবলীয় রসিকতার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। ফলস্বরূপ, প্রতি বিশ্বকাপেই ব্রাজিল সমর্থকদের খোঁচাতে সেভেনআপ নিয়ে তৈরি হয় নতুন নতুন মিম, ট্রল আর কার্টুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই জোয়ার দেখে যে কেউ ধরে নিতে পারেন, বিশ্বকাপ এলে বোধহয় সেভেনআপের বিক্রি আকাশচুম্বী হয়। তবে ঢাকার পাইকারি ব্যবসায়ী, ডিলার ও…
Author: শাহরিয়ার মাহী
বাংলাদেশের অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারের আয় বাড়লেও তারা জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছেন না। এর ফলে মাস শেষে তাদের হাতে জমানো টাকা আগের চেয়ে কমে গেছে। সাধারণ মানুষ এর জন্য মূলত মূল্যস্ফীতিকেই দায়ী করছেন। একটি নতুন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মূল্যস্ফীতি ছাড়াও এর নেপথ্যে কাজ করছে করনীতি। এই কাঠামোর কারণে করদাতাদের প্রকৃত আয় না বাড়লেও তারা দিন দিন উচ্চ করের আওতায় চলে যাচ্ছেন। বিনিয়োগ বিশ্লেষক এবং বিংহামটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক তৌকির আজিজ ‘বাংলাদেশের করের চাপ’ (বাংলাদেশ’স ট্যাক্স স্কুইজ) শীর্ষক তথ্যভিত্তিক এক গবেষণায় এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, গত এক দশকে মূল্যস্ফীতি, টাকার অবমূল্যায়ন এবং পরোক্ষ করের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার সঙ্গে কর…
ঢাকার সড়কে বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বেশ সফলভাবে কাজ করছে নতুন এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ট্রাফিক ক্যামেরা। তবে এই প্রযুক্তিনির্ভর কড়াকড়ি নাগরিকদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে এক মৃদু বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। এই প্রযুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন—যেমন লাল বাতি অমান্য করা, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, লেন ভাঙা, অবৈধ পার্কিং এবং নির্ধারিত স্টপ লাইনের বাইরে গাড়ি থামানো শনাক্ত করতে পারে। তবে কার্যকারিতার দিক থেকে প্রযুক্তিটি ব্যাপক প্রশংসা পেলেও তথ্য সুরক্ষা, নিরাপত্তা এবং নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো উপেক্ষিতই রয়ে গেছে। চলতি বছরের এপ্রিলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এআই-ভিত্তিক সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘন শনাক্তকরণ ব্যবস্থা’ চালু করে। প্রথম ধাপে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল থেকে…
পুরান ঢাকার সরু গলিগুলোতে একসময় ছিল নীরব অনন্য উদারতার ছোঁয়া। সেখানকার পলেস্তারা খসে পড়া কংক্রিটের দেয়ালে ঝুলত শার্ট, শিশুদের পোশাক, শীতের কম্বল আর শাড়ি। যাদের সামর্থ্য বেশি ছিল তারা এগুলো রেখে যেতেন, আর যাদের প্রয়োজন তারা তা নিয়ে যেতেন। এখানে কারও নাম লেখা হতো না, কাউকে কোনো প্রশ্নও করা হতো না। এই দেয়ালগুলো একটি সহজ বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে চলত, আর তা হলো–মানুষ মানুষের জন্য। সেই দেয়ালগুলোর অনেকগুলো হয় হারিয়ে গেছে, নয়তো চরম অবহেলায় পড়ে আছে। কিছু দেয়াল পোস্টার ও দেয়াললিখনের স্তূপের নিচে ঢাকা পড়ে গেছে। অন্য দেয়ালগুলোর হ্যাঙ্গার, রঙ এবং উদ্দেশ্য সবই হারিয়ে গেছে। এখন পুরান ঢাকার গলিগুলোতে হাঁটলে…
এবারের ঈদুল আজহায় আরও একবার বড় ধরনের মন্দার মুখোমুখি হয়েছে দেশের চামড়া শিল্প। ব্যবসায়ীরা অসহায় হয়ে দেখছেন কিভাবে চামড়ার দাম ধসে পড়ছে, কীভাবে বিপুল পরিমাণ চামড়া অবিক্রিত থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চামড়াশিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার বা সিইটিপি পূর্ণ ক্ষমতায় চলতে না পারায় যে দূষণ ঘটছে, তার কারণে ইউরোপের ক্রেতারা বাংলাদেশি চামড়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারেও কাঁচা চামড়ার চাহিদা কমে গেছে। এসব সমস্যা জানা থাকার পরেও সিইটিপি সম্প্রসারণ কিংবা নতুন শোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনা আটকে আছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, এই খাতের বিপুল রপ্তানি সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সরকারের কার্যকর তদারকি এবং সমস্যা সমাধানে উদ্যোগের অভাব পরিস্থিতিকে…
বর্ষা এলে রাজধানীর উপকণ্ঠ মাতুয়াইলের আকাশে শুধু মেঘ জমে না, জমে আতঙ্কও। শহীদনগর, শামীমবাগ, আদর্শবাগ, মুন্সীবাগ, তুষারধারা কিংবা কুতুবখালী-এই জনপদগুলোর মানুষের কাছে বৃষ্টি এখন আর ঋতুর সৌন্দর্যের নাম নয়; বরং জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগ আর অনিশ্চয়তার প্রতিশব্দ। একটু বৃষ্টি হলেই কোথাও খাল উপচে রাস্তা তলিয়ে যায়, কোথাও ড্রেনের কালচে নোংরা পানি ঢুকে পড়ে ঘরে। কোথাও আবার হাঁটুসমান পানির ভেতর দিয়েই শিশুদের স্কুলে যেতে হয়। বছরের পর বছর ধরে চলা এই দুর্ভোগ এখন এমন এক বাস্তবতায় পৌঁছেছে, যেখানে স্থানীয়দের ভাষায় ‘জলাবদ্ধতা’ আর সাময়িক সংকট নয়, বরং স্থায়ী অভিশাপ। রোদ বা বৃষ্টি, বছরের বেশিরভাগ সময়ই মাতুয়াইল হাসপাতাল রোড, শহিদবাগ, মুন্সীবাগ, শামীমবাগ, রায়েরবাগ, তুষারধারা, সাদ্দাম…
নগর কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর মানুষের অসচেতনতায় ঢাকার ফুটপাতগুলো পথচারীবান্ধব হয়ে উঠতে পারেনি কখনও। যেন এর আরও অবনতি হচ্ছে দিনে দিনে। পরিস্থিতি এমন যে, যাদের হাঁটার জন্য এটি নির্মাণ করা, সেই পথচারীই সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় থাকে। কোথাও হকার, কোথাও দোকানের বর্ধিতাংশ, কোথাও গাড়ি মেরামত, কোথাও পার্কিং; মোটরসাইকেল চলাচল আরেক বিরক্তির কারণ, বাইসাইকেল চালকদের যেন ধারণাই নেই সেখানে তাদের ওঠার কথা নয়। এর মধ্যে নগর কর্তৃপক্ষ আবার দখলবাজিকে বৈধতা দিতে যাচ্ছে, যেখানে ফুটপাতকে ভাড়ার বিনিময়ে বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটি উচ্চ আদালতের নজরে এসেছে, সর্বোচ্চ আদালত থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তবে ফুটপাতে মোটরসাইকেল ঠেকাতে দেওয়া আদেশ এক দশকেরও বেশি সময় পরে…
তীব্র ভোগান্তির মধ্যেও লাখো মানুষের ঈদযাত্রায় যে বিষয়টি ফুটে ওঠে, তা হলো এই নগর ছেড়ে যাওয়ার স্বস্তি। জীবিকা বা অন্য কারণে এই শহরে থাকতে বাধ্য হওয়া দুই কোটি মানুষ যে এই শহরের জীবন উপভোগ করেন না, সেটিও থাকে তাদের প্রকাশে। এই শহরের জীবন তাদের কাছে যন্ত্রণাক্লিষ্ট। এখানে পর্যাপ্ত নাগরিক সুযোগ সুবিধার অভাব, নেই বিনোদনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও। পরিবেশ দূষণের কারণে ঘরের বাইরে যাওয়াই এখানে যন্ত্রণার আরেক নাম। নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘ঢাকার মানুষ যে চাপের মধ্যে বসবাস করছে, সেটি কেবল ব্যক্তিগত জীবনযাত্রার সমস্যা নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও এককেন্দ্রিক উন্নয়নের ফল।’ কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা…
রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা হিসেবে ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠা পাওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) পথ হারিয়েছে। প্রতিষ্ঠার সময়ই এর লক্ষ্য ছিল নগরবাসীকে নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও শৃঙ্খলাপূর্ণ গণপরিবহন সেবা দেওয়া। কিন্তুসেই লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে এখন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়া হচ্ছে বাস। পর্যাপ্ত সংখ্যক বাসের অভাবে রাজধানীবাসীর যাতায়াত যেখানে কঠিন হয়ে উঠেছে, সে সময় যাত্রী পরিবহনের বদলে অফিসগামীদের আনা নেওয়ার কাজেই নিয়োজিত বিআরটিসির বহরের একটি বড় অংশ। বিআরটিসির বাসের আয়ু এমনিতেই স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও কম, কখনো কখনো তা এক তৃতীয়াংশেরও কম। বর্তমানে সারা দেশে কোম্পানিটির সচল বাসের সংখ্যা এক হাজার ১৫০টি। এর প্রায় ৭০ শতাংশ চলে ঢাকায়। কিন্তু ঢাকাবাসী এর…
কোরবানির ঈদে প্রায় প্রতি বছর যেসব কারণে চামড়ার দরপতন ঘটে, সেগুলোর প্রতিটিই এবারও রয়ে গেছে। পুরোনো সংকটের পাশাপাশি তীব্র গরমও এবার সমস্যা হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা। ঈদের ছুটির আগে আগে পুরান ঢাকার পোস্তায় কাঁচা কামড়া ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে জানা গেল, গত বছর তো বটেই আগের বহু বছরের বকেয়া জমে শত কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। দুই দশক আগেও ঈদের চামড়া সংগ্রহকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রতিযোগিতা দেখা গেলেও এখন সেই চিত্র আর নেই। প্রায় প্রতি বছর মৌসুমি ব্যবসায়ীরা লোকসান দিয়ে আগ্রহ হরিয়ে ফেলছেন। গত বছর ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বড় বড় শহরে চামড়া ফেলে দেওয়ার…

