নরসিংদীর ডাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ইব্রাহিম আল মাসুম হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো: আশিকুর রহমান।
এর আগে, ভোরে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন, সাফাদি মির্জা বিজয় (২৫), শাহ আলম ফকির (৩০), রিফাত ওরফে বাবু ফকির (২২), তুষার (২৫) মেহেদী (২০)।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শুক্রবার ভোরে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী থানাধীন ঠাকুরপাড়া এলাকার ‘হোটেল গ্রীন প্যালেস’ নামের একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সেখান থেকে এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি সাফাদি মির্জা বিজয়সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
অভিযানের সময় আসামিদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ ভাঙা রক্তমাখা একটি ৩২ ইঞ্চি টেলিভিশন, রক্তমাখা দু’টি সাবান এবং একটি ভাঙা ছেনি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।
আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে, গত ১ আগস্ট দিবাগত রাতে ডাঙ্গার হাসনহাটা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় গুলিবিদ্ধ হন ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম আল মাসুম। এ সময় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ আরও অন্তত ১০ জন আহত হন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ফকির বাড়ি এলাকার বিজয়, সবুজ, ইকবাল ও সানির সঙ্গে একই এলাকার মাসুম, মামুন ও জয়নাল আবেদীনের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পূর্ব বিরোধ ছিল। গত ১ আগস্ট রাতে ফকির বাড়ি এলাকায় মাসুম, মামুন ও জয়নালসহ আরও কয়েকজন একটি মুদি দোকানে অবস্থান করছিল।
এ সময় বিজয়, সবুজ, ইকবাল ও সানি দলবলসহ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা করে। এতে পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন ছাত্রদল নেতা মাসুম। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে প্রতিপক্ষের এলোপাতাড়ি কোপে আহত হন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মামুন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীনসহ আরও ১০ জন।
আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে আহত মাসুমকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নয় দিন পর গত ১০ আগস্ট সকালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ছাত্রদল নেতা মাসুমের বোনের জামাই মো. মহসিন বাদি হয়ে পলাশ থানায় ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।


