কুষ্টিয়ার মিরপুরে এক ইউপি সদস্যকে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর পরিকল্পনা করে নিজেরাই পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন এক ডেকোরেটর ব্যবসায়ী ও তার দুই সহযোগী। ইউপি সদস্যের বাড়ির পাশের ভুট্টার পালায় অস্ত্র, গুলি ও ককটেলসদৃশ বস্তু রেখে পুলিশে খবর দেওয়ার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, ডেকোরেটর ব্যবসায়ী আশিক আলী, তার কর্মচারী কালু ও মালিহাদ গ্রামের আব্দুল মজিদ।
শুক্রবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তাদের কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ডেকোরেটর ব্যবসাকে কেন্দ্র করে নওদাপাড়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আরিফুল ইসলামের সঙ্গে আশিক আলীর পূর্ব বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ১১ আগস্ট আশিক পুলিশকে খবর দেন, আরিফুলের বাড়ির পাশের ভুট্টার পালায় অস্ত্র ও মাদক রাখা হয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে একটি ওয়ান শুটার গান, এক রাউন্ড গুলি ও দুটি ককটেলসদৃশ বস্তু উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ইউপি সদস্য আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে আরিফুলকে গ্রেপ্তারের পর স্থানীয়রা জানালে, ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয়। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে, পূর্ব বিরোধের জেরে ইউপি সদস্যকে ফাঁসাতেই পরিকল্পিতভাবে তার বাড়ির পাশে অস্ত্র ও বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু রাখা হয়েছিল।
পুলিশের দাবি, ঘটনার কয়েক দিন আগে আশিক তার কর্মচারী কালুকে অস্ত্র সংগ্রহের নির্দেশ দেন। পরে তিনি আব্দুল মজিদের কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকায় একটি ওয়ান শুটার গান, এক রাউন্ড গুলি ও দুটি ককটেলসদৃশ বস্তু সংগ্রহ করেন। এরপর সেগুলো আরিফুলের বাড়ির পাশের ভুট্টার পালায় রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ প্রথমে আব্দুল মজিদকে আটক করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কালু এবং পরে ডেকোরেটর ব্যবসায়ী আশিক আলীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
ইউপি সদস্য আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘২০২৩ সালে একটি মাহফিলে আশিকের ডেকোরেটর ব্যবহার না করায় তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেই পুরোনো বিরোধের জেরেই তাকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে।’
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ইউপি সদস্যকে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে জবানবন্দি নেওয়ার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


