জাতীয় সংসদে আগামী ১০ বছরের বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা পেশ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সারা দেশের মানুষ বিদ্যুতের অভাবে কষ্ট ভোগ করছেন। আগামী ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে আগামী ১০ বছরের বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করা হবে।’
‘এই সংকট মোকাবিলা করতে ধৈর্য ধরতে হবে এবং ঠান্ডা মাথায় ধীরে ধীরে সমস্যার সমাধান করতে হবে। বিদ্যুৎ সংকটকে কেন্দ্র করে রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ মানুষ’, যোগ করেন তিনি।
রোববার কিশোরগঞ্জে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাকুন্দিয়ায় পৌঁছে মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় রাষ্ট্র মেরামত ও পুনর্গঠনের কাজে সবাইকে হাতে হাত রেখে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগের সরকারের সময় দেশের অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একদিনে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থা থেকে দেশকে পুনর্গঠন করতে সময় লাগবে। এখন সময় হচ্ছে কাজ করার। এখন সময় হচ্ছে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার।’
নারীসমাজকে পিছনে রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। তাদের ছাড়া কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই নারীদের অনার্স (স্নাতক) পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তিও দেওয়া হবে।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিবছর নতুন বইয়ের পাশাপাশি স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান।
নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড চালুর কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের চার কোটি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে পর্যায়ক্রমে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রতিটি ঘরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। কিশোরগঞ্জেও এর উদ্বোধন করা হচ্ছে।’

মৎস্য অবমুক্তকরণে দেশের মানুষের উপকার হবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘এই মাছ যখন বড় হবে, ডিম পাড়বে, খালে-বিলে ঢুকবে, তখন উপকার কাদের হবে? ওই লন্ডনের মানুষের উপকার হবে, নাকি জাপানের মানুষের উপকার হবে? বাংলাদেশের মানুষের উপকার হবে।’
তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য দেশের মানুষ ও গ্রামের মানুষের কল্যাণ। সরকার গঠনের পর সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। খাল খননের ফলে কৃষকের সেচ সুবিধা বাড়বে, পাশাপাশি স্থানীয় মানুষও পানির সুবিধা পাবেন। এসব খাল ও নদীতে পর্যায়ক্রমে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে। এতে একদিকে কৃষকের সেচ সুবিধা বাড়বে, অন্যদিকে মাছ মানুষের খাদ্যের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখবে।
কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে কৃষি কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের বছরে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হবে। পাশাপাশি সার, বীজ ও কীটনাশক পর্যায়ক্রমে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, নারী, কৃষক, শিক্ষার্থী, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণে সরকার কাজ করতে চায়। তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিতে এগিয়ে নিতে নতুন কুঁড়ি কর্মসূচির মাধ্যমে খেলোয়াড় ও শিল্পী তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমান আরও বলেন, দেশের মালিক বাংলাদেশের জনগণ। গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখতে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। দেশের মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে যারা কাজ করবে এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


