লিবিয়ায় বিপদগ্রস্ত ও স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহী আরও ৩৪০ বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরছেন। বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়ার তত্ত্বাবধানে এবং লিবিয়ার জাতীয় ঐক্যমত্যের সরকারের সার্বিক সহযোগিতা ও ব্যবস্থাপনায় তাদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে তাদের বহনকারী ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়
প্রত্যাবাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ৫ আগস্ট লিবিয়া সরকারের ব্যবস্থাপনায় প্রত্যাবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণ থেকে ত্রিপোলির সরকারি অভ্যর্থনা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সমন্বয় করে।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. হাবীব উল্লাহ দূতাবাস প্রাঙ্গণ ও সরকারি অভ্যর্থনা কেন্দ্রে প্রত্যাবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের বিদায় জানান। তিনি তাদের অভিজ্ঞতা ও সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে খোঁজখবর নেন। দীর্ঘ অপেক্ষা ও নানা প্রতিকূলতার পর দেশে ফেরার সুযোগ পাওয়ায় প্রত্যাবাসনপ্রত্যাশী অনেক বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ সময় দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম), প্রথম সচিবসহ (শ্রম) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি, প্রত্যাবাসন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে দূতাবাসের কর্মকর্তারা ত্রিপোলির মেতিগা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে প্রত্যাবাসিত নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেন।
প্রি-ডিপার্চার ব্রিফিংয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ দূতাবাস দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। এ লক্ষ্যে লিবিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক ও নিবিড় সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
তিনি মানবিক কারণে স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য লিবিয়া সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে লিবিয়া সরকারের অগ্রাধিকারকে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।
দেশে ফিরে প্রত্যাবাসিত নাগরিকদের নতুনভাবে জীবন শুরু করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, সমাজের নেতিবাচক মন্তব্য বা অবজ্ঞাকে উপেক্ষা করে পরিবারের সহযোগিতা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
পাশাপাশি, অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচারের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে প্রত্যাবাসিতদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, যাতে অন্য কেউ দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে একই ধরনের দুর্ভোগের শিকার না হন।
রাষ্ট্রদূত মানবপাচার ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।


