অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘উৎখাতের ষড়যন্ত্রে’ জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকার মিন্টো রোড থেকে গ্রেপ্তার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরীকে তৃতীয় দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।
বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জি. এম ফারহান ইসতিয়াকের আদালত শুনানি শেষে রিমান্ডের আদেশ দেন। এদিন কারাগার থেকে তাকে আদালতে হাজির করা হলে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের পরিদর্শক মো. আখতার মোর্শেদ তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে শুনানি করেন।
এ সময় আসামিপক্ষে আইনজীবী শাহিনুর ইসলাম রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে রিমান্ডের আদেশ দেন।
এর আগে, এই মামলায় দুই দফায় সাত দিন তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, এনায়েত করিম চৌধুরী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক। ১৯৮৮ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর ২০০৪ সালে আমেরিকান পাসপোর্ট পান। বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার জন্য অন্য দেশের গোয়েন্দা সংস্থার ‘এজেন্ট’ হিসেবে ৬ সেপ্টেম্বর তিনি বাংলাদেশে আসেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘১৩ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১০টার দিকে মিন্টো রোড এলাকায় প্রাডো গাড়িতে করে ‘সন্দেহজনকভাবে’ ঘুরতে থাকেন এনায়েত করিম চৌধুরী। তাকে দেখে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ তার গাড়ি থামায়। কেন এখানে ঘোরাঘুরি করছেন, জানতে চাইলে তিনি পুলিশকে কোনো উত্তর দিতে পারেননি। এজন্য তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় এবং তার কাছে থেকে দুটি আইফোন জব্দ করা হয়।’
পরে তার বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা হয়। এ মামলায় দুই দফায় এনায়েত করিমকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি পুলিশ।
এ সময় এনায়েতের দেওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে তার সহযোগী এসএম গোলাম মোস্তফা আজাদ, জাতীয় পার্টির রওশনপন্থি অংশের মহাসচিব কাজী মো. মামুনুর রশীদ ও যুব সংহতির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব রিফাতুল ইসলাম পাভেলকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।


