ভুয়া পরীক্ষার্থী ও দালাল চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

ভুয়া পরীক্ষার্থী ও দালাল চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার
ছবি: সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

রংপুরে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ পরীক্ষায় ভুয়া প্রবেশপত্র ব্যবহার করে প্রক্সি পরীক্ষার্থী প্রবেশের চেষ্টা এবং চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে ১৭ লাখ টাকার প্রতারণার অভিযোগে একটি দালাল চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে রংপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নাম নিয়োগচক্রের প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রংপুর কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. বাদশা মাসউদ আলম এবং সাভারের জিরাবো মডার্ন ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. নুরুল ইসলাম রয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হলেন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার শিরাইল গ্রামের আশরাফুল ইসলাম, দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার ছাতইল গ্রামের তাজমিলুর রহমান।

রংপুর জেলা পুলিশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজে চলমান এএসআই নিয়োগ পরীক্ষার সময় কেন্দ্রের মূল ফটকে মো. আশরাফুল ইসলাম নামে এক পরীক্ষার্থীকে সন্দেহজনকভাবে আটক করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই করে তার প্রবেশপত্রটি জাল বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ। একই সময় তার সঙ্গে প্রক্সি পরীক্ষার্থী হিসেবে আসা মো. তাজমিলুর রহমানকেও আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল জানান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রংপুর কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক বাদশা মাসউদ আলম এবং নুরুল ইসলাম তাকে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুন

এ জন্য তার বাবার সঙ্গে ১৭ লাখ টাকায় চুক্তি হয় এবং তিনি ঢাকা ব্যাংকের একটি হিসাবে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দেন। পরে অভিযুক্তরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তার কাছে একটি জাল প্রবেশপত্র পাঠিয়ে দেয়। অথচ তিনি কোনো শারীরিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি।

আশরাফুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ রংপুর নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড় এলাকা থেকে বাদশা মাসউদ আলমকে গ্রেপ্তার করে। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগ এবং জাল প্রবেশপত্র তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাদশা মাসউদ আলম জানান, নুরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। তারা দীর্ঘদিন ধরে জাল প্রবেশপত্র তৈরি করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণা করে আসছিল।

এ ছাড়া তারা বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে এবং ভুয়া পদবি ধারণ করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মোবাইলে ফোন দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ঘটনাটি শুধু একজন কর্মকর্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ নিয়োগ চক্র সক্রিয় রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নাম এই নিয়োগচক্রের প্রধান কুশীলব হিসেবে উঠে এসেছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রংপুর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা গ্রেপ্তারকৃতদের সংশ্লিষ্টতার প্রমান পেয়েছি। আপাতত তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সংঘবদ্ধ নিয়োগ চক্রে জড়িত উচ্চপদস্থ কিছু কর্মকর্তার নাম শোনা যাচ্ছে। তদন্ত শেষে যাচাই বাচাই করে তাদের সম্পৃক্ততা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ ঘটনায় নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি, প্রতারণা, জাল প্রবেশপত্র তৈরি ও ব্যবহার, টাকা আত্মসাৎ এবং ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে রংপুর মেট্রোপলিটন সদর থানায় মামলা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad