বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসর নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সিরিয়াসনেস নিয়ে কোনো কমতি ছিল না। আর্থিক স্বচ্ছতা, ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক থেকে শুরু করে ফিক্সিংয়ের দাপট থামাতে সবকিছুতেই প্রতিকার রেখেছিল আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড। কিন্তু বিপিএল বলে কথা, একটু বিতর্ক না হলে ঠিক জমে ওঠে না। হ্যাঁ, বিতর্কিত, সমালোচিত কাণ্ড বিপিএলের সঙ্গী সেই শুরু থেকেই। তবে বৃহস্পতিবার যা হলো তা ছাপিয়ে গেছে আগের ১১ আসরকে।
টুর্নামেন্টের প্রথম বলটা মাঠে গড়ানোর বাকি নেই আর ২৪ ঘণ্টাও, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা নাগাদ বিসিবি সূত্রে খবর আসে, চট্টগ্রাম রয়্যালসের মালিক কাইয়ুম রাশেদ আর দল চালানোর খরচ বহন করতে পারছেন না মর্মে বিসিবিতে চিঠি দিয়েছেন।
বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু সেই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, চট্টগ্রামের দায়িত্ব নিচ্ছে বিসিবি। কোচিং প্যানেল থেকে শুরু করে টিম ম্যানেজমেন্ট; সবকিছুতেই এসেছে বদল। প্রধান কোচ হয়েছেন মিজানুর রহমান বাবুল, মেন্টর হাবিবুল বাশার সুমন আর টিম ম্যানেজার নাফিস ইকবাল। সেই হিসেবে দলটির যাবতীয় খরচ ও ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকের বিষয়াদির সবকিছুই দেখভাল করবে বিসিবি।
সকালের আচমকা এই ধাক্কা বেশ লেগেছে বিপিএলের গায়ে। এ নিয়ে মিঠু বলেন, ‘খুব চাপে আছি। দুই তিন ঘণ্টা আগে যদি একটা টিম বলে যে আমরা ফাইন্যান্সিয়ালি সাপোর্ট দিতে পারছি না, হ্যাঁ। তো সুতরাং এটা হলে মানে আপনি চিন্তা করেন, প্রচণ্ড প্রেসার।’
নতুন টিম ম্যানেজমেন্ট নিয়োগ দেয়া নিয়ে মিঠু আরো জানান, দুই ঘণ্টার নোটিশে সব সামাল দিতে হয়েছে তাদের। সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন ছিলেন এবারের বিপিএলের টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য। তাকে তাৎক্ষনিকভাবে সেখান থেকে পদত্যাগ করিয়ে মেন্টর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন তারা।
মিঠু বলেন, ‘ হাবিবুল বাশারকে আপনার টেকনিক্যাল কমিটি থেকে রিজাইন করিয়ে আজকে এই লাস্ট দুই ঘণ্টার মধ্যে আমরা করলাম কি ওকে টিম ডিরেক্টর বানিয়ে দিয়ে কোচ বাবুলকে ঢাকা থেকে ফ্লাই করা হচ্ছে আর নাফিজ ইকবালকে ম্যানেজার করে আমরা আজকে সেট করলাম যে ক্রিকেট বোর্ড ইজ টেকিং টেকিং ওভার। আর যেই চিঠিটা আমাদের দিয়েছে আমরা এটা লিগ্যাল অপিনিয়নের জন্যে আমাদের লিগ্যাল টিমকে পাঠিয়েছি।’
এখানেই শেষ নয়, নাটকের বাকিটা মঞ্চস্থ হয়েছে নবাগত নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বদৌলতে। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির এক কর্মকর্তা ইমরান হাসানের সাথে বাদানুবাদে জড়ান হেড কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন। ঘটনার সূত্রপাত দলের অনুশীলনে যথাযথ সামগ্রী না থাকা থেকে। অনুশীলনের মাঝপথে হুট করে সহকারী কোচ তালহা জুবায়েরকে নিয়ে মাঠ ছেড়ে চলে যান সুজন। টিম বাসের তোয়াক্কা না করে সিএনজি নিয়েই চলে যান টিম হোটেলে। দলের ম্যানেজার এসে বুঝিয়েও তাদের ফেরাতে পারেননি।
মূলত অনুশীলনে মাত্র তিনটি বল দেয়া থেকেই ক্ষিপ্ত হন সুজন আর তালহা। তারা জানান, ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে বল দেয়ার কথা থাকলেও তারা সেটা না পেয়ে ক্রিকেটারদের থেকে বল নিয়ে কাজ চালিয়েছেন। এর আগে ক্ষোভ ঝেড়ে সাংবাদিকদের বলে যান, ‘আমি কোনোভাবেই বিপিএল করব না। অনেক কোচ আছে, নিতে পারবে।’
যদিও এরপর বিকেলে মাঠে ফিরেছেন তিনি আর তালহা। দিনের সেই ঘটনা নিয়ে সুজন বলেন, ‘ভাই জাস্ট এ মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং একটা, হিট অফ দা মোমেন্ট হয়তোবা এরকম একটা বিষয় হইছে। বাট থ্যাঙ্কস টু দ্য টিম ওনার্স যারা আমার পিছে দাঁড়ায় আছেন দুইজনই। উনারা আমার সাথে কথা বলছেন এন্ড বিসিবি থেকেও আমার সাথে কথা বলছে একটু। ট্রেনিংয়ের ফ্যাসিলিটি ছিল না বলে, ইকুইপমেন্টগুলো দরকার আমি তখন পাইনি মানে তখন আমার একটু মেজাজ খারাপই হইছে আসলে।


