গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে অর্থপাচার মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে আদালতকে জানিয়েছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের এসআই সাইফুল ইসলাম গত রোববার উত্তরা পশ্চিম থানায় এই মামলা করেন।
মামলার পর ওই দিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকা থেকে হরিদাসকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইন্সপেক্টর কে এম রাকিবুল হুদা।
সিআইডির আবেদনে বলা হয়, হরিদাস চন্দ্র তরণীকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তার ব্যাংক ও এমএফএস হিসাবে কারা এবং কী কারণে অর্থ জমা করেছে এবং সেই অর্থ কার কাছে হস্তান্তর বা কীভাবে ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
এসব তথ্য মানিলন্ডারিং মামলার তদন্ত কাজে সহায়ক হবে। আসামির দেওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন।
আদালতে হরিদাসের পক্ষে আইনজীবী শ্যামল কুমার রায় জামিন চেয়ে শুনানি করেন এবং রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক হরিদাসের কাছে তার পেশা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি চাল-ডালের ব্যবসা করেন এবং এর লাইসেন্স আছে বলে জানান।
একই সঙ্গে হরিদাস আদালতকে বলেন, এলাকায় একটি মন্দিরের কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, তরণী দাস পলাশবাড়ীর আলোচিত শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ব্যবসার আড়ালে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারসহ হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার নামে থাকা নয়টি ব্যাংক হিসাব ও কাগজপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি ব্যবসা-বহির্ভূত নগদ অর্থ জমা করেছেন। হরিদাসসহ অজ্ঞাতনামা দুই-তিনজনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র হুন্ডির মাধ্যমে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অপরাধলব্ধ অর্থ অর্জন, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে এর অবৈধ প্রকৃতি, উৎস ও মালিকানা গোপন করেছে।
সম্প্রতি পলাশবাড়ী উপজেলায় রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির চত্বরে হিন্দু দেবতা রামের বিগ্রহ নির্মাণ কাজ শুরু করে মন্দির কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ‘এশিয়ার সর্ববৃহৎ’ রাম বিগ্রহ হওয়ার কথা ছিল। তবে এর অর্থায়নের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইমাম ওলামা পরিষদ আন্দোলনে নামলে গত ৯ জুন বিগ্রহ নির্মাণের কাজ স্থগিত করে মন্দির কমিটি।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিন ভারতে অবস্থানের পর হরিদাস ২০২৪ সালে এলাকায় ফিরে আসেন এবং গ্রামের কালী মন্দিরের পুরনো অবকাঠামো পরিবর্তন করে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেন।


