গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নির্মাণাধীন রামমূর্তির দেখভালকারী হিসেবে পরিচিত হরিদাস চন্দ্র তরনী দাসকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। এ সময় অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করেন সংগঠনটির নেতারা।
একইসঙ্গে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণে বাধা, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা-নির্যাতন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বন্ধে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
শনিবার দুপুরে রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশ শেষে সংগঠনটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি পল্টন মোড় ঘুরে আবার প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়।
এ সময় বক্তারা গাইবান্ধার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া, হরিদাস চন্দ্র তরনী দাসের মুক্তি এবং দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সমাবেশে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মণীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, ‘পলাশবাড়ীতে যে মন্দির নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটির কাজ দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও বিভিন্ন সময়ে ওই মন্দির পরিদর্শন করেছেন এবং নির্মাণকাজ সম্পর্কে অবগত ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই মন্দিরের দেখভালকারী হরিদাস চন্দ্র তরনী দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী মন্দিরে ভাঙচুর ও ভগবান রামের প্রতিকৃতির অবমাননা করেছে। অথচ এ ঘটনার বিচার না করে মন্দিরের দেখভালকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, প্রশাসন এতদিন কী করছিল? এখন তাকে গ্রেপ্তার করার মাধ্যমে কী বার্তা দেওয়া হচ্ছে?’
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনায় সরকারের প্রতিক্রিয়া পর্যাপ্ত নয় বলেও মনে করেন মণীন্দ্র কুমার নাথ। তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর অসংখ্য হামলা-নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ড ও মন্দিরে হামলার ঘটনাও রয়েছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানাই।’
তিনি অভিযোগ করেন, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হলেও অন্য ধর্ম সম্পর্কে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এ ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সরকার কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলনের কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক। একই সঙ্গে তিনি হরিদাস চন্দ্র তরনী দাসের বিরুদ্ধে করা মামলাকে ‘মিথ্যা’ দাবি করে তা প্রত্যাহার এবং তার দ্রুত মুক্তির দাবি জানান। পাশাপাশি কারাবন্দী চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর মুক্তিও দাবি করেন তিনি।
সমাবেশে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি নির্মল রোজারিও বলেন, সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় সরকারকে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘মন্দির, মসজিদ, গির্জা ও প্যাগোডা নির্মাণ ও সংরক্ষণ প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। কোনো গোষ্ঠী যাতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।’
গাইবান্ধার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে নির্মল রোজারিও বলেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকা সত্ত্বেও যদি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে রাষ্ট্রের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সরকারকে সব নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।


