গণঅভ্যুত্থানের পর টানা দ্বিতীয় বছর আয় বেড়েছে বিএনপির। ২০২৫ সালে আগের বছরের তুলনায় প্রায় সাত কোটি টাকা বেশি আয় করেছে দলটি। এর আগে ২০২৪ সালেও ২০২৩ এর তুলনায় বিএনপির আয় বেড়েছিল প্রায় ১৪ কোটি টাকা।
রোববার নির্বাচনে কমিশনে ২০২৫ সালের আয় ও ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে দলের একটি প্রতিনিধিদল কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে এই আর্থিক বিবরণী জমা দেয়।
রিজভী জানান, ২০২৫ সালে বিএনপির আয় ছিল ২২ কোটি ১৯ লাখ ৫৫ হাজার ১৮২ টাকা। আর দলটি ব্যয় করেছে ১৫ কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার ৮৫৭ টাকা।
এর আগের বছর ২০২৪ সালে বিএনপির আয় ছিল ১৫ কোটি ৬৫ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪২ টাকা। ওই বছর দলটির ব্যয় হয়েছিল ৪ কোটি ৮০ লাখ ৪ হাজার ৮২০ টাকা।
গণঅভ্যুত্থানের আগে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় ২০২৩ সালে বিএনপির আয় ছিল তুলনামূলক কম। ওই বছর দলটি আয় দেখিয়েছিল ১ কোটি ১০ লাখ ৮০ হাজার ১৫১ টাকা। তবে ব্যয় হয়েছিল ৩ কোটি ৬৫ লাখ ২৩ হাজার ৯৭০ টাকা।
রিজভী আরও জানান, গত বছর উদ্বৃত্তের কারণে তাদের দলের ব্যাংক স্থিতি দাঁড়িয়েছে ২৮ কোটি ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬৮০ টাকা। এ ছাড়া হাতে নগদ রয়েছে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৭০০ টাকা।
বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, নির্বাহী কমিটির চাঁদা, বই-পুস্তক বিক্রয়, প্রাথমিক সদস্য ফরম বিক্রয়, মনোনয়ন ফরম বিক্রয়, বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে অনুদান এবং ব্যাংক থেকে অর্জিত সুদসহ এ আয় হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দলের সারা বছরের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, বিভিন্ন বন্যা কবলিত জেলায় ত্রাণ বিতরণ, পোস্টার-লিফলেট ছাপানো, দলীয় প্রয়োজনে গাড়ি কেনা, বিভিন্ন জনসভায় খরচ, আলোচনা সভায় হলভাড়াসহ অন্যান্য খরচ, পত্রিকায় ক্রোড়পত্র ছাপানো, রমজানের ইফতার মাহফিল এবং অফিসিয়াল কার্যক্রম, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন এবং দুস্থ নেতা-কর্মীদের সহায়তা প্রভৃতি খাতে ব্যয় করা হয়েছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, নিবন্ধিত প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্য প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পূর্ববর্তী পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের অডিট রিপোর্ট ইসিতে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কোনো দল পরপর তিন বছর হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হলে ইসি চাইলে তাদের নিবন্ধন বাতিল করতে পারে।


