দক্ষিণ লেবাননে ৯০ হিজবুল্লাহ যোদ্ধাকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের জেরে দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯০ জন হিজবুল্লাহ যোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)। তারা এসব যোদ্ধাকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি বাহিনী জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ইরানপন্থী হিজবুল্লাহর দুই সদস্যকে হত্যা করেছে। একই সঙ্গে তাদের বিমানবাহিনী রাতভর হামলা চালিয়ে সংগঠনটির বিভিন্ন অবকাঠামো ধ্বংস করেছে বলেও দাবি করে আইডিএফ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলের আকস্মিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহত হওয়ার পর তার সমর্থনে ইসরায়ালের হিজবুল্লাহ রকেট হামলা চালালে ফের যুদ্ধে জড়ায় লেবানন ও ইসরায়েল।
আইডিএফের হামলায় লেবাননের বিভিন্ন স্থান, এমনকি রাজধানী বৈরুতও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু তাই নয়, চিহ্নিত হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের হত্যা করতে দেশটির ভেতরে স্থল অভিযান পরিচালনা করছে ইসরায়েল।
এমন পরিস্থিতিতে প্রায় দক্ষিণ লেবাননের ১২ লাখ মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।
এর আগে, ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এরপরও ইসরায়েল ১০ হাজারের বেশি বার সেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে এবং তাদের হামলায় শত শত লেবানিজ নাগরিক নিহত হয়েছেন।
”ইরানের
[live_update time=”দুপুর ১২.২৫” title=”যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার দাবি জাপানের বিরোধী নেতার”

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন জাপানের প্রবীণ রাজনীতিক এবং দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির দীর্ঘদিনের নেতা কাজুও শিই। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জাপানের আকাশসীমায় মার্কিন সামরিক বিমানের চলাচলের অনুমতির বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবা উচিত।
২০২৪ সালে দলীয় নেতৃত্ব ছাড়ার পরও কাজুও শিই এখনো কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ অস্ট্রিয়া যেখানে ইরান যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত মার্কিন যুদ্ধবিমানকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে নিষেধ করছে, সেখানে জাপানেরও ভেবে দেখা উচিত।’
কাজুও শিইয়ের মতে, মার্কিন সামরিক বিমানগুলো জাপানের আকাশে অত্যন্ত নিচু উচ্চতায় উড্ডয়নসহ বিভিন্ন মহড়া ও কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই তারা দেশের নিজস্ব আইনও উপেক্ষা করছে। কেবল ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিই নয়, মার্কিন সেনাদের সব ধরনের ‘এক্সেস’ দেওয়ার বিষয়টি এবার মৌলিকভাবে পুনর্বিবেচনা করা দরকার বলে মনে করেন তিনি।
জাপান কমিউনিস্ট পার্টি দেশটির সবচেয়ে পুরোনো সক্রিয় রাজনৈতিক দল হলেও জাতীয় রাজনীতিতে তাদের প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত। বর্তমানে জাপানের প্রতিনিধি পরিষদে দলটির আসন সংখ্যা মাত্র চারটি।
অন্যদিকে, এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে জাপান পরিচিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সই করা একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় বর্তমানে জাপানে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, যা দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
নিখোঁজ মার্কিন সেনার উদ্ধারাভিযানে অংশ নেওয়া বিমান ভূপাতিতের দাবি ইরানের

ইরানের আকাশসীমায় ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ পাইলটের সন্ধানে পরিচালিত উদ্ধারাভিযানে অংশ নেওয়া বিমানও ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান।
ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড করপস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন সেনাকে উদ্ধারে অংশ নেওয়া একটি সি-১৩০ বিমান দক্ষিণাঞ্চলের ইসফাহান শহরের কাছে বিধ্বস্ত করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজের খবরে বলা হয়, ইরান পুলিশের ফারাজ রেঞ্জের এক কমান্ডার উদ্ধার অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ওই বিমানটি লক্ষ্য করে ভূমি থেকে গুলি চালান। ইরানি নিরাপত্তাবাহিনীর তীব্র প্রতিরোধের মুখে সেটি ভূপাতিত করা হয়।
ফারস তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে একটি ছবিও প্রকাশ করেছে, যেখানে একটি মাঠের ভেতর থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। ছবির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় বলা হয়েছে, এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বড় ধরনের পরাজয় আড়াল করার মরিয়া চেষ্টার’ অংশ।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে জানান, নিখোঁজ মার্কিন সেনাকে সামান্য আহত অবস্থায় নিরাপদে উদ্ধার করে ইরানের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এ দাবির পক্ষে কোনো তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।
সূত্র: আল জাজিরা
নাটকীয় অভিযানে নিখোঁজ মার্কিন পাইলটকে উদ্ধার, স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন ট্রাম্প

ইরানে ভূপাতিত হওয়া মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ পাইলটকে নাটকীয় এক অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক সদর দপ্তর পেন্টাগন। এরইমধ্যে ওই সেনাকে নিরাপদে ইরানের বাইরে নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, ওই সেনা প্রায় দুই দিন ধরে ইরানি বাহিনীর নজর এড়িয়ে অবস্থান করছিলেন, এরপর মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘এলিট টিম’ তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তবে উদ্ধার অভিযানে কোন ইউনিট অংশ নিয়েছিল, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সোমবার রাতের অন্ধকারের মধ্যেই ওই সেনার অবস্থান নিশ্চিত করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি ইউনিট। ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানটি সফলভাবে সম্পন্ন হলেও উদ্ধারের সময় তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ইরানি কর্তৃপক্ষ আগেই ধারণা করেছিলেন, ওই বিমানসেনা কোথায় অবস্থান করছেন। তবে এই সেনা নারী নাকি পুরুষ সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি কোনো পক্ষ।

পেন্টাগন জানায়, অভিযানে অংশ নেওয়া সেনাদের জন্য পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক। তবুও সব ঝুঁকি মোকাবিলা করে উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করা হয়। তবে ওই সময় পর্যন্ত উদ্ধারপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ছিল।
এদিকে নিখোঁজ সেনাকে নিরাপদে উদ্ধার করায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমেরিকা আবার স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচ্ছে। ইরানে ভূপাতিত হওয়া যুদ্ধবিমান থেকে নিখোঁজ হওয়া সেনা, যিনি কর্নেল পদমর্যাদার, তাকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে।’
‘গত কয়েক ঘণ্টায় মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের ইতিহাসের অন্যতম সাহসী অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে এবং উদ্ধার হওয়া কর্মকর্তা এখন নিরাপদে আছেন’, যোগ করেন ট্রাম্প।
তিনি আরও বলেন, ‘ওই কর্মকর্তার অবস্থান সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছিল এবং অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানে অংশ নিতে অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত বহু যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছিল।’
‘উদ্ধার হওয়া কর্মকর্তা কিছুটা আহত হলেও তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন’ জানিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, এই ধরনের সফল সামরিক অভিযান প্রমাণ করে যে ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন বাহিনী শক্তিশালী অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেছে এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
গত রোববার হরমুজ প্রণালি ও ইরানের আকাশসীমায় দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে ইরান। এতে থাকা দুই পাইলটকে নিরাপদে উদ্ধার করা হলেও এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানে থাকা অস্ত্র কর্মকর্তা ইজেকশনের পর নিখোঁজ ছিলেন। তার সন্ধানে তাৎক্ষনিকভাবে দুটি মার্কিন হেলিকপ্টার উদ্ধার অভিযান পরিচালনার চেষ্টা করলে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র প্রতিরোধের মুখে ফেরত যেতে বাধ্য হয়।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের জন্য ‘বড় চমক’ অপেক্ষা করছে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যতই হুমকি আর হুঁশিয়ারি দিয়ে যাক না কেন, ইরান তাদের পরিকল্পনা মতোই এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা। তার দাবি, ইরানের কাছে প্রতিপক্ষের ‘সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর তালিকা’ রয়েছে। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী জানে, ঠিক কোথায় হামলা করতে হবে।
ওই কর্মকর্তার বরাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজের খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য আমাদের কাছে একটি বড় চমক রয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তারা এটি দেখতে পাবে।’
তার দাবি, মার্কিন ও ইসরায়েলি সেনারা ইরানের যেসব স্থাপনাকে গুরুত্বপূর্ণ ভেবে হামলার লক্ষ্যবস্তু করছে, তা ‘যথাযথ নয়’।সেইসঙ্গে ইরানকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘হাস্যকর’ আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস করাতে এবং তাদের হেরে যাওয়া প্রমাণিত হওয়াতেই ট্রাম্প ক্ষিপ্ত হয়ে এসব আবোলতাবোল বলছেন।’
সূত্র: আল জাজিরা
ট্রাম্পকে 'দিশেহারা, ভারসাম্যহীন' আখ্যা দিয়ে আল্টিমেটাম প্রত্যাখ্যান ইরানের
হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শান্তি চুক্তিতে রাজি হতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আল্টিমেটাম প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।
এর আগে, তেহরান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে শান্তিচুক্তিতে রাজি না হলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন ট্রাম্প।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘সোমবারের মধ্যে তেহরান চুক্তি করতে ব্যর্থ হলে ইরানে “নরক” নেমে আসবে।’
এর পরপরই ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক বাহিনীর সদর দপ্তর খাতাম আল-আম্বিয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের এই আল্টিমেটাম প্রত্যাখ্যান করে।
ইরানি জেনারেল আলী আবদুল্লাহি আলীআবাদি বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই আল্টিমেটাম “অসহায়, দিশেহারা, ভারসাম্যহীন” কাজ।’
আলীআবাদি ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, ‘সহজ ভাষায় আমাদের এই বার্তার সহজ অর্থ হলো— আমাদের জন্য নয়, বরং আপনাদের জন্যই জাহান্নামের দরজাগুলো খুলে যাবে।’
ট্রাম্প তার পোস্টে আরও বলেন, ‘আমি ইরানকে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে অথবা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ১০ দিনের সময় দিয়েছিলাম। সময় শেষ হয়ে আসছে। তাদের হাতে আর ৪৮ ঘণ্টা সময় আছে, এরপরই তাদের ওপর নরক নেমে আসবে।’
সূত্র: আল জাজিরা


