বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অপরাধমূলক ঘটনার বেশিরভাগই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয় বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
দেশের সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালের পুলিশের নথি পর্যালোচনা করে সোমবার প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পোস্টে জানানো হয়, দেশে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে উন্নতির পথে রয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে সংখ্যালঘু-সংশ্লিষ্ট মোট ৬৪৫টি ঘটনার নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে। তথ্য-উপাত্তের প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এর মধ্যে ৭১টি ঘটনায় সাম্প্রদায়িক উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বাকি ৫৭৪টি ঘটনাই সাধারণ অপরাধ, এসবের সঙ্গে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের কোনো সম্পর্ক নেই।
ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রদায়িক ঘটনাগুলোর মধ্যে মূলত ধর্মীয় উপাসনালয় ও প্রতিমা ভাঙচুর বা অবমাননার মতো বিষয়গুলো ছিল। অন্যদিকে, সংখ্যালঘু ব্যক্তি বা সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বাকি অধিকাংশ ঘটনার পেছনে ধর্মীয় কারণ নেই। এর পরিবর্তে প্রতিবেশী বা জমিসংক্রান্ত বিরোধ, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, চুরি, যৌন সহিংসতা এবং ব্যক্তিগত শত্রুতার মতো সামাজিক ও অপরাধমূলক কারণগুলোই প্রধান হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রদায়িক উপাদানের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া ৭১টি ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে জানানো হয়, এর মধ্যে মন্দির ভাঙচুরের ৩৮টি, অগ্নিসংযোগের ৮টি, মন্দিরে চুরির ১টি, হত্যাকাণ্ডের ১টি এবং প্রতিমা ভাঙার হুমকি বা ফেসবুক পোস্টসহ উপাসনালয়ের আঙিনায় ক্ষতির মতো আরও ২৩টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫০টি মামলা করা হয়েছে এবং ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এছাড়া আরও ২১টি ঘটনায় প্রয়োজনীয় পুলিশি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি অপরাধই গুরুতর এবং এর বিচার নিশ্চিত করা হবে। তবে ঘটনার সঠিক শ্রেণিবিন্যাস করা জরুরি, কারণ এটি ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়ানো রোধ করতে এবং কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করে।
পোস্টে পুলিশের তৎপরতার প্রশংসা করে বলা হয়, ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে অপরাধ দমনে সরকার প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার রক্ষা করে চলেছে।
দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে পোস্টে বলা হয়, জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ এখনো বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবছর দেশে গড়ে প্রায় তিন হাজার ৫০০ মানুষ সহিংস অপরাধে প্রাণ হারান, যা কোনোভাবেই সন্তোষজনক নয়। তবে এই পরিসংখ্যানকে সঠিক প্রেক্ষাপটে বোঝা প্রয়োজন, কারণ সহিংসতা কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সব সম্প্রদায়কেই সমানভাবে প্রভাবিত করছে।
সরকার আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছে, উন্নত পুলিশি ব্যবস্থা, গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় এবং দ্রুত পদক্ষেপের কারণে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টান—পরিচয় নির্বিশেষে সব নাগরিকের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব।


