ছোদটপর্দার অভিনেতা জাহের আলভী তার স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন। নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় এ বিষয়ে তৈরি হওয়া বিভিন্ন প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
তিনি স্ত্রী ইকরার সঙ্গে সম্পর্কটিকে ‘টক্সিক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। ইকরা শুরু থেকে সন্দেহপ্রবন ছিলেন বলেও জানান আলভী। একই সঙ্গে তার দেশে না ফেরা, অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথির সঙ্গে সম্পর্কসহ বিভিন্ন গুঞ্জনের ব্যাখ্যা দেন।
আলভী জানান, ব্যক্তিগত জীবনের ট্র্যাজেডি নিয়ে তিনি কখনোই জনসম্মুখে খুব বেশি আলোচনা করতে চাননি।
তিনি বলেন,‘আমি আসলে কখনোই চাইনি যে মানুষটা পৃথিবী থেকে চলে গেছে, তাকে নিয়ে আপনাদের সাথে খুব বেশি বড় কোনো কনভারসেশন করতে। আমার স্ত্রী ইকরা, যেহেতু সে এই পৃথিবীতে নেই, তাকে নিয়ে এত ক্ল্যারিফিকেশন, এত কনভারসেশনের কোনো দরকার নেই বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। আমি সবসময়ই আমার সংসারের ব্যাপার, আমার ঘরের ব্যাপার ঘরেই রাখতে চেয়েছি।’
ইকরার মৃত্যুতে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত দাবি করে আলভী বলেন, ‘আমি আসলে কোনো কিছু গুছিয়ে বলার মতো অবস্থায় বা পরিস্থিতিতে নেই। ওর (ইকরার) মৃত্যুটা আমাকে যে ট্রমা দিয়েছে, সেটা আমাকে পাথর বানিয়ে দিয়েছে। আমি এসব নিয়ে কথা বলতে চাইনি, কিন্তু আমার মনে হয় আপনারা গল্পের একটা পাতা পড়েই পুরো গল্পটাকে জাজ করছেন। আপনারা আপনাদের মনের মতো যা খুশি বলছেন। কিন্তু এক পাশ পড়ে অন্য পাশ পড়বেন না, সেটা তো হয় না।’
বর্তমানে দেশের বাইরে থাকা এই অভিনেতা কেন দেশে ফিরছেন না, তার ব্যাখ্যায় গণপিটুনি ও প্রাণনাশের আশঙ্কার কথা জানান। তার কথায়, ‘আপনারা কি আমার দেশে আসার মতো পরিস্থিতি রেখেছেন? আমি দেশে আসা মাত্রই আমার ওপর মব তৈরি হবে, আপনারা আমাকে টাইনা ছিঁড়া ফেলবেন। আমার ফোনে এত থ্রেটস যে আমি বলে বোঝাতে পারব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এয়ারপোর্টের বাইরে লোকজন রেডি করা আছে, আমি গেলেই তারা আমাকে মারবে, মেরে ফেলবে। পুলিশ ধরে নিয়ে গেলে সেটা ভিন্ন কথা, আমি তা আইনগতভাবে ফেস করব। কিন্তু এখন যদি আমি মারা যাই, তাহলে আমার বাচ্চার কী হবে? আপনারা কি চান রিজিক তার বাবাকেও হারাক?’
ইকরার মৃত্যুর জন্য তার আশেপাশের মানুষ দায়ী বলে দাবি করেন। একইসঙ্গে ভিডিও কলে তার সঙ্গে মাত্র ২২ সেকেন্ড কথা হয়েছিল বলে জানান। তখন ইকরা তাকে শেষবারের মত দেখা নেওয়ার কথা বলেন, এমনটাই ভাষ্য আলভীর। ভিডিও বার্তায় জানান, সাথে সাথে ব্যক্তিগত সহকারীকে ফোন দিয়ে বিষয়টা দেখার জন্য বলেন। ইকরা দরজা আটকে দিলে তাদের সন্তান রিযিক তাকে ডাকলেও সে সাড়া দেয়নি।
কাছের বন্ধুবান্ধবরা ইকরার কান ভারী করেছে বলে দাবি আলভীর। অভিনেত্রী তিথির সঙ্গে তার সম্পর্ক শুধু ভালো বন্ধুত্বের বলেও জানান।
তিথির জন্মদিন পালনের উদ্দেশ্যে নেপাল যাওয়ার বিষয়টি ঠিক নয় বলেও ভিডিওতে বলেন আলভী। তিনি জানান, ইকরার সঙ্গে তিথির সম্পর্ক ভালো ছিলো। তাছাড়া তিনি ইকরাকে অনেকবার বলেছেন, তিনি তার স্ত্রী। এখানে অন্য কারো স্থান নেই।
ইকরা অনেকবার ডিভোর্স চাইলে তিনি তাকে তা দিতে রাজি ছিলেন না। তাকে ডিভোর্স দিয়ে তিথিকে বিয়ে করবেন বলে চ্যাটিংয়ের যে স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়েছে সেগুলো ফেইক বলেও দাবি করেছেন আলভী।
উল্লেখ্য মিরপুর ডিওএইচএস-এর বাসা থেকে ইকরার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয় শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে। এরপর ১ মার্চ আলভীকে প্রধান আসামী করে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে ইকরার পরিবার।
আলভী জানান, তিনি দেশে ফিরতে চান এবং আইনীভাবে মামলা মোকাবিলা করতে চান।
আলভী ও ইকরা ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর ভালোবেসে গোপনে বিয়ে করেন। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০২৪ সালে তাদের বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসে। তাদের একমাত্র ছেলে রিজিক।


