সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় কৃষক ছানোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও আট মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার দুপুরে সিরাজগঞ্জের দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র দায়রা জজ মো. ইকবাল হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—মো. মানিক হোসেন ওরফে হীরা মানিক, মো. শাহাদত হোসেন, মো. মাহমুদুল হাসান নয়ন, মো. রুবেল মিয়া, মো. শরিফুল ইসলাম ও মোছা. রাবেয়া খাতুন। তাদের বাড়ি সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার চর বেড়া, রামআরচর ও চর গোজা এলাকায়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত ছানোয়ার হোসেন পেশায় কৃষক ছিলেন। তিনি মো. হিরা নামে এক ব্যক্তির কাছে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা পাওনা ছিলেন। পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে হিরার সঙ্গে ছানোয়ারের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া বসতবাড়ির সম্পত্তি নিয়ে তার ভাসুরের স্ত্রী রাবেয়া খাতুনের সঙ্গেও বিরোধ চলছিল।
২০২০ সালের ৮ জুলাই সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে কল পেয়ে পাওনা টাকা নেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন ছানোয়ার। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি।
এর প্রায় দুই মাস পর, ২০২০ সালের ১১ সেপ্টেম্বর উল্লাপাড়া থানার কওড়া সড়াতলা এলাকায় সূর্য নদীর পানিতে বস্তাবন্দি অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহটি পচে-গলে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় স্বজনরা প্রথমে তা শনাক্ত করতে পারেননি।
পরে নিহতের দুই ছেলে রিফাত ও সিফাতের সঙ্গে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি তাদের বাবা ছানোয়ার হোসেনের বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ছানোয়ারকে শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত পাওয়া যায়। পরে নিহতের স্ত্রী সেলিনা খাতুন বাদী হয়ে কয়েকজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সলঙ্গা থানায় হত্যা মামলা করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত ছয় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের রায় দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও আট মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায়ে বলা হয়েছে, দণ্ডিত আসামিদের বিচারকালীন হাজতবাস বিধান অনুযায়ী সাজা থেকে বাদ যাবে। আদালতে উপস্থিত আসামিদের সাজা কার্যকর করতে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন শাকিল মোহাম্মদ শরিফুল হায়দার এবং আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম আকন্দ।


