দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে তার অনুসারীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে রাঙামাটি বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদারসহ ১৫ সদস্যের নাম ঘোষণা করেছে মন্ত্রণালয়। এতে পদত্যাগী মন্ত্রীর অনুসারীদের নাম না থাকায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির উপজাতি বিষয়ক সহ-সম্পাদক মনীষ দেওয়ানও এ নিয়ে ক্ষুব্ধ। নতুন কমিটি ঘোষণার পর তিনি ফেসবুকে এক পোস্টে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
১৯৮৯ সালের পর ৩৭ বছর কেটে গেছে, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে আর কোনো নির্বাচন জয়নি। ১৯৯৭ এর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ধারা লঙ্ঘন করে শুধুমাত্র সরকারদলীয় নেতাদের মনোনীত করে পরিচালনা হয়ে আসছে পরিষদের কার্যক্রম।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক ইন্টুমনি তালুকদারের অভিযোগ, নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় পাহাড়ে বাড়ছে দুর্নীতি ও অনিয়ম।
তিনি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘পাহাড়ের মানুষ চেয়েছিল বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসায় এবার জেলা পরিষদগুলোতে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্য উদ্যোগ নেবে। কিন্তু পাহাড়ের মানুষ হতাশ। সরকারদলীয় ব্যক্তিদের কমিটিতে বসানো হয়েছে।’
১৫ জনের কমিটি দিয়ে পাহাড়ের জনগোষ্ঠীর মানুষের সুখ-দুঃখ ও অভিযোগের সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পার্বত্য চুক্তির আলোকে জেলা পরিষদে সব জনগোষ্ঠীর ৩৩ জনকে নিয়ে কমিটি করা প্রয়োজন।’
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠনের পর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া দীপেন দেওয়ান শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আড়াই মাসের মাথায় পদত্যাগ করেন। অথচ মন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকে দেখা গেছে প্রাণচঞ্চল। সে সময় তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও অংশ নেন।
দীপেনের পদত্যাগের আড়াই মাসেরও বেশি সময় পর মন্ত্রণালয়ে নতুন মন্ত্রী হিসেবে সাচিং প্রু জেরী দায়িত্ব নিয়েছেন গত রোববার। তবে দীপেনের পদত্যাগ নিয়ে তার অনুসারীরা এখনও কথা বলে যাচ্ছেন।
তাদের প্রশ্ন, দীপেনকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে নাকি নাকি পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠনে তিনি ছিলেন বড় বাধা।
পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন সভাপতি দীপন তালুকদার দীপুর অনুসারী ও রাঙামাটি বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শাকিলের দাবি, দীপেন দেওয়ানের মন্ত্রিত্ব গেছে পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন নিয়ে ‘অতিরিক্ত বাড়াবাড়ির’ কারণে।
‘দীপন তালুকদারকে চেয়ারম্যান মেনে নিলে তো মন্ত্রিত্ব যেত না’, এমনও বলেছেন তিনি।
আসলেই কি এ কারণে মন্ত্রিত্ব ছেড়েছেন দীপেন?- জানতে চাইলে জেলা পরিষদের নতুন চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার বলেন, ‘মন্ত্রিত্ব আর জেলা পরিষদ পুনর্গঠন এক বিষয় নয়। এখানে কোনো সম্পর্ক থাকার বিষয় নয়।’
তার ভাষায়, ‘জেলা পরিষদ গঠন হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে। উপজেলা পর্যায়ে নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই পরিষদ গঠন করা হয়েছে। যারা কমিটিতে এসেছেন সবাই বড় বড় পদধারী এবং যোগ্য ব্যক্তি। শাকিল যে মন্তব্যটি করেছেন একান্ত তার ব্যক্তিগত।’
দীপেন দেওয়ানের দাবি, পরিষদ পুনর্গঠনের বিষয়ে তিনি জানতেন না। বলেছেন, ‘অভিজ্ঞ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নিয়ে পুনর্গঠন করা হলে ভালো হতো।’
যে কমিটি হয়েছে, সেটা যে তার মনঃপুত হয়নি, এটি স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলের পরিষদগুলো দুর্নীতির আখড়া। প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যায়ে ৩১ দফার আলোকে এই পরিষদগুলোকে দুর্নীতিমুক্তভাবে গঠন করার ক্ষেত্রে জোর দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু জেলা বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করা ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। জেলা পরিষদে তাদের ঠাঁই হয়নি।”’
জেলা পরিষদ পুনর্গঠনই নিয়েই বিরোধে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয়েছে কি না, এই প্রশ্নে তিনি সরাসরি জবাব না দিয়ে বলেন, ‘শহীদ জিয়ার আদর্শকে লালন পালন করি বলে অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করিনি।’


