মিটফোর্ড হত্যায় সমাজমাধ্যমে বিভিন্ন ‘অপতথ্য’ প্রচার করা হচ্ছে বলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ফেসবুকের অফিসিয়াল পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে সবাইকে সতর্ক করেছে। তবে বিস্ময়করভাবে ওই বিবৃতির সঙ্গে তারা জুড়ে দিয়েছে ব্যবসায়ী লালচাঁদ, ওরফে সোহাগ হত্যার আরেকটি ‘নৃশংস ভিডিও’!
রোববার রাতে প্রচার করা প্রায় দুই মিনিটের ওই ফেসবুক রিলে রক্তাক্ত সোহাগের মরদেহ ঘিরে ছাতা হাতে শত শত উৎসুক জনতাকে ভিড় করতে দেখা যায়, যাদের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।এতে কয়েকজনকে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতেও দেখা যায়।
ফেসবুক নীতিমালা অনুযায়ী, এ ধরণের ‘নৃশংস’ ও ‘সহিংস’ (ভায়োলেন্স) ভিডিও ক্লিপ ও ছবি প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, যা ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ‘সমাজের জন্য ক্ষতিকর’ (হার্মফুল) হিসেবে ঘোষণা করেছে।
‘ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যার ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং আসামি গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে’ শীর্ষক ডিএমপির বিবৃতিটি হুবহু এ রকম:
‘গত ৯ জুলাই ২০২৫ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের তিন নম্বর গেটের সামনে ব্যবসায়ী লালচাঁদ ওরফে সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় পুলিশি তৎপরতা সম্পর্কে বিভিন্ন সামাজিকমাধ্যমে ভুল ব্যাখ্যা সম্পর্কে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে উক্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনার সংবাদ প্রাপ্তির সাথে সাথে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকেই পুলিশ মূল অভিযুক্ত মাহমুদুল হাসান মহিনকে হেফাজতে নেয় এবং তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক ঘটনার সাথে জড়িত তারেক রহমান রবিনকেও গ্রেপ্তার করে। একইসাথে ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্যদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও পাওয়া যায় যা পুলিশি তদন্তের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।’
‘তথাপি উক্ত ঘটনায় পুলিশি তৎপরতা সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে নানা ধরনের “অপতথ্য” ছড়াচ্ছেন যা মোটেই কাম্য নয়। এ মতাবস্থায় উক্ত ঘটনা সম্পর্কে কোনরূপ “অপতথ্য” ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তে পুলিশের ওপর আস্থা রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে বিনীত অনুরোধ করা হলো।’
‘উক্ত ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং প্রকৃত অপরাধীরা যে দল বা মতের লোকই হোক না তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
মিটফোর্ড হত্যায় এ পর্যন্ত পুলিশ ও র্যাব চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে, তাদের মধ্যে অন্ততঃ দুইজন ওই ‘হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত’ বলে শনিবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র্যাব জানিয়েছে। ‘লম্বা মনির ও আলমগীর’ নামে গ্রেপ্তার দুই সন্দেহভাজন আসামিকে ভিডিও ফুটেজ দেখে গ্রেপ্তার করা হয় বলেও জানায় র্যাব।
মিটফোর্ড হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের অন্ততঃ পাঁচজনকে এরই মধ্যে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে এই তিন সংগঠন শনিবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দাবি করছে, ‘প্রকৃত আসামি’ বাদ দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অন্যদের গ্রেপ্তার করেছে।
এছাড়া ওই হত্যার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শনিবার বিবৃতি দিয়েছেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতারা একাধিকবার বিবৃতি ও বক্তব্য দিয়েছেন।


