জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-এর অনুচ্ছেদ ৭ অনুযায়ী অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিল।
সংগঠনটির দাবি, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ গণঅভ্যুত্থানের আইনি দলিল এবং জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায়ের একমাত্র লিখিত আইনি প্রকাশ, যা বর্তমানে কার্যকর আইন এবং সংশ্লিষ্ট সবার জন্য বাধ্যতামূলক।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে আয়োজিত ‘সংবিধান সংশোধন কমিটি, গণভোট, জুলাই সনদ ও পঞ্চদশ সংশোধনী মামলার রায়: বর্তমান বাস্তবতা ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিব মোমেন, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান, বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি জসিম উদ্দিন সরকার, সেক্রেটারি জেনারেল মতিউর রহমান আকন্দ এবং এএসএম শাহরিয়ার কবির।
সংবাদ সম্মেলনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের একমাত্র আইনি ভিত্তি ছিল জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ। বর্তমান সংবিধানে ওই সময় নির্বাচন বা গণভোট আয়োজনের সুনির্দিষ্ট লিখিত বিধান না থাকায় এই আদেশে নির্ধারিত সংজ্ঞা ও সময়কালই নির্বাচনের আইনি ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর বাইরে ওই নির্বাচন অনুষ্ঠানের অন্য কোনো আইনি ভিত্তি ছিল না।
তিনি ফিলিপাইন, গ্রানাডা ও লেসোথোর রাজনৈতিক পরিস্থিতির উদাহরণ দিয়ে দাবি করেন, সেসব দেশের সুপ্রিম কোর্টও মত দিয়েছিল যে গণঅভ্যুত্থানের বৈধতা বা অবৈধতার প্রশ্ন আদালতের বিচার্য নয়, বরং জনগণই এ বিষয়ে চূড়ান্ত বিচারক।
প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের শপথের প্রসঙ্গ তুলে শিশির মনির বলেন, বর্তমান সংবিধানে এ ধরনের শপথের বিধান নেই। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায়ই এ ক্ষেত্রে আইনি বৈধতার উৎস।
তিনি আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হলেও আদালত কেবল রুল জারি করেছে, কোনো স্থগিতাদেশ দেয়নি। তাই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং সদস্যদের শপথ নিতে বর্তমানে কোনো আইনি বাধা নেই।
শিশির মনির অভিযোগ করেন, সম্প্রতি সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা বর্তমান সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবে। গণভোটের বিধান অনুসারে সংসদ সদস্যদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকারের পক্ষ থেকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে অবৈধ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে এবং মানবাধিকার কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে আইনের বৈধতা বা অবৈধতা নির্ধারণ এবং আইনের ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, এটি ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতির পরিপন্থী। কোনো আইন সংবিধানসম্মত কি না তা নির্ধারণের একমাত্র এখতিয়ার উচ্চ আদালতের, অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কোনো আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করতে পারে না।


