আর্জেন্টিনার কাছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বেদনাদায়ক হারের পর লিওনেল মেসির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন। তিনি বলেন, আর্জেন্টিনার অধিনায়ক আবারও প্রমাণ করেছেন যে কেন তিনি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়।
অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ইংল্যান্ড ফাইনালে ওঠার পথেই ছিল বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু ম্যাচের শেষ মুহূর্তে এনজো ফার্নান্দেজ এবং লাউতারো মার্টিনেজের গোলে ফাইনালে পৌঁছে যায় মেসির আর্জেন্টিনা।
কেইন স্বীকার করেন, পুরো সপ্তাহজুড়ে ইংল্যান্ডের সমস্ত পরিকল্পনা ছিল কেবল মেসিকে থামানো নিয়ে।
তিনি বলেন, ‘গত পুরো সপ্তাহে আমাদের সমস্ত মনোযোগ ছিল লিওনেল মেসিকে থামানোর ওপর। প্রতিটি মিটিং, প্রতিটি অনুশীলন সেশন—সবকিছুই আবর্তিত হয়েছিল কিভাবে তার প্রভাবকে সীমিত করা যায় তা নিয়ে। সেটা আমরা করতে পেরেছিলাম। আমরা তাকে গোল করা থেকে বিরত রাখতে পেরেছিলাম।’
তবে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক মেনে নেন যে, মেসিকে কেবল গোল করা থেকে দূরে রাখাই যথেষ্ট ছিল না।
কেইন বলেন, ‘মেসির আসল ব্যাপারটাই তো এখানে। ৩৯ বছর বয়সেও সে এককথায় অবিশ্বাস্য। আপনি যখন ভাববেন যে আপনি তাকে আটকানোর জন্য যথেষ্ট করেছেন, ঠিক তখনই তার সহায়তায় দুটি গোল করিয়ে বসল। সে দুটি চূড়ান্ত মুহূর্ত তৈরি করল যা পুরো ম্যাচটাই পুরোপুরি বদলে দিল।’
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে এসে খেলা হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার বিষয়টি মেনে নেওয়া ইংল্যান্ডের জন্য কতটা কঠিন ছিল, তা প্রকাশ করে কেইন বলেন, ‘ম্যাচ জয়ের পরিস্থিতি থেকে শেষ সাত মিনিটে হেরে যাওয়াটা অত্যন্ত বিধ্বংসী। ম্যাচ আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল, আমরা জয়ের এত কাছাকাছি ছিলাম, আর ঠিক তখনই সবকিছু এভাবে উল্টে গেল।’
তিনি আরও যোগ করেন, সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে মেসির ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাই দুই দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।
কেইন বলেন, ‘মাঝে মাঝে আপনাকে এমন একজন খেলোয়াড়ের মুখোমুখি হতে হয় যে এক নিমেষেই সবকিছু বদলে দিতে পারে, আর আজ সেটাই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।’
এই চরম হতাশার পরও এখনই হাল ছাড়ছেন না কেইন। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। আগামী বিশ্বকাপের সময় কেইনের বয়স হবে ৩৭ বছর। তিনি জানান, মেসির এই দীর্ঘ ফুটবল ক্যারিয়ার তাকে এখনো অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাচ্ছে।
কেইন বলেন, ‘চার বছর অনেক দীর্ঘ সময়। এই গ্রীষ্মে আমার বয়স ৩৩ বছর হবে। তবে আপনি যখন মেসিকে এখনো সর্বোচ্চ স্তরে পারফর্ম করতে দেখেন, তখন আমি নিজের জন্য কোনো সীমারেখা টেনে দিতে চাই না।’


