আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল ম্যাচ চলাকালীন লিওনেল মেসির সঙ্গে সংক্ষিপ্ত তর্কবিতর্কের ব্যাখ্যা দিয়েছেন জুড বেলিংহাম। তিনি জানিয়েছেন, এটি একটি ফাউল নিয়ে সাধারণ আলোচনা ছাড়া আর কিছুই ছিল না।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনার রোমাঞ্চকর ২-১ গোলের জয়ের ম্যাচের প্রথমার্ধে এই দুই তারকার মধ্যকার কথোপকথনটি সবার নজর কাড়ে। তবে বেলিংহাম জানান, তাদের মধ্যে কোনো খারাপ মনোভাব বা তিক্ততা ছিল না।
বেলিংহাম বলেন, ‘আসলে আমরা কেবল একটি ফাউল নিয়ে আলোচনা করছিলাম। খারাপ কিছু ছিল না। আমি নিশ্চিত, সবাই বিষয়টি নিয়ে মাতামাতি করবে এবং এটিকে বড় করে দেখানোর চেষ্টা করবে, কিন্তু আসলে তেমন কিছুই ঘটেনি।’
এই ইংলিশ মিডফিল্ডার এরপর সেই মুহূর্তে তাদের মধ্যে ঠিক কী কথা হয়েছিল, তা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল একটু আগে একটি ফাউল হয়েছে। ও (মেসি) বলল, ‘আমার ওপর যেটা করা হলো সেটার কী হবে?’ তখন আমি বললাম, ‘এটুকু সহ্য করার মতো যথেষ্ট শক্তি তো তোমার আছে।’ আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আমি কী বোঝাতে চেয়েছি?”
যদিও ইংল্যান্ডকে আবারও বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের বেদনাদায়ক স্বাদ নিতে হয়েছে, তবুও ম্যাচ শেষে মেসির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন বেলিংহাম।
রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডার ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে খেলতে পারাকে বিশেষ সৌভাগ্য বলে অভিহিত করেন।
বেলিংহাম বলেন, ‘অবশ্যই আমি পরাজিত দলে, যা খুবই কষ্টদায়ক। তবে তার বিরুদ্ধে খেলতে পারাটা অত্যন্ত সৌভাগ্যের।’
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে অ্যান্থনি গর্ডন গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নেওয়ার পর মনে হচ্ছিল তারা ফাইনালে জায়গা করে নিতে চলেছে। তবে শেষ মুহূর্তের গোল করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। দলটির হয়ে গোল দুটি করেন এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্টিনেজ। দুটি গোলেই অ্যাসিস্ট বা অবদান রাখেন লিওনেল মেসি, আর এর মাধ্যমে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা আরও একটি বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেয়।
বেলিংহাম স্বীকার করেন, এই পরাজয় মেনে নেওয়া ছিল কঠিন। এজন্য তিনি ইংল্যান্ডের সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চান।
তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আমি ইংল্যান্ডের সেই দলের অংশ হতে চেয়েছিলাম যারা ট্রফি জয় করবে। বছরের পর বছর ধরে সমর্থকরা যেসব কথা শুনে অভ্যস্ত, আজ এখানে দাঁড়িয়ে তাদের আবার সেই একই কথা শোনানো সত্যিই বেদনাদায়ক। আমি দুঃখিত।’
ইংল্যান্ড এখন তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে, আর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে লড়বে আর্জেন্টিনা।


