নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে নিজেদের ঘাটের কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে নিখোঁজের আট ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্য মো. সাদিকের (২৬) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় দুর্ঘটনাস্থলের অদূরে কেরোসিন ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, বেলা ১১টার দিকে নগরীর নিতাইগঞ্জের ফায়ার ঘাট এলাকায় নিজেদের পন্টুনের সামনে কচুরিপানা পরিষ্কার করার সময় স্পিডবোট থেকে পড়ে নিখোঁজ হন সাদিক।
আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের জেটির সামনে জমে থাকা কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজে সাদিকসহ তিনজন নিয়োজিত ছিলেন। স্পিডবোটের সামনের দিকে থাকা ডুবুরি সাদিক ঢেউয়ের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যান।
সঙ্গে থাকা অপর দুই সদস্যের বর্ণনা অনুযায়ী, পড়ে যাওয়ার সময় সাদিক মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ তিনি একজন প্রশিক্ষিত ডুবুরি ছিলেন, কোনো আঘাত না পেলে তিনি এভাবে নিখোঁজ হতেন না।
সাদিক নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে খুঁজতে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কোস্টগার্ডের সদস্যরাও শীতলক্ষ্যা নদীতে উদ্ধার তৎপরতা চালান।
নিহত সাদিক নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের একজন প্রশিক্ষিত ডুবুরি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ বাজারের কুমরাকান্দি গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আশরাফ উদ্দিনের ছেলে।
সহকর্মীরা জানিয়েছেন, সাহসী কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সাদিক গত বছর সেরা ডুবুরি হিসেবে ‘ফায়ার সার্ভিস পদক’ পেয়েছিলেন। গত মাসে সিদ্ধিরগঞ্জের একটি লেকে গোসলে নেমে নিখোঁজ তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের কাজেও তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন।


