চাঁদপুর ৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ হান্নান (চিংড়ি প্রতীক) ও বিএনপির প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদের (ধানের শীষ) সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে প্রার্থী এম এ হান্নানসহ উভয়পক্ষের ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই অভিযুক্তকে আটক করে এক মাস করে কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চাঁদপুর উপজেলার আলাদা আলাদা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে এসব পাল্টাপাল্টি হামলা হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে ঘটনাস্থল থেকে আবুল কাশেম (৩৬) ও আল আমিন (২৬) নামে দুইজনকে আটক করে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার পর গুপ্টি ইউনিয়নের ষোলধানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন খাজুরিয়া বাজার ও রুপসা বাজার এলাকায় এম এ হান্নান ও হারুনুর রশিদের সমর্থকদের মধ্যে চার দফা হামলার ঘটনা ঘটে।
এর আগে হোগলী এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর উঠান বৈঠকে ধানের শীষের সমর্থকেরা মিছিল নিয়ে এসে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
এম এ হান্নান দাবি করেন, তার গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর করা হয়। এতে তিনি নিজে আহত হয়েছেন। সেইসঙ্গে সাবেক পৌর মেয়র মঞ্জিল হোসেন, যুবদলের আহবায়ক জহিরুল ইসলাম পাটওয়ারী, বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ, জসিম পাটোয়ারী, বিএনপি নেতা ইউসূফ, শ্রমিক দলের সভাপতি আলী হোসেন ও ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেনসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
অন্যদিকে রুপসা উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইমাম বাবু জানান, গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রুপসা বাজারে এসে ধানের শীষের কর্মীদের উপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর চিংড়ি প্রতীকের সমর্থকরা।
এ সময় বিএনপির পক্ষ থেকে ফারুক (৩৫), অহিদুল্লাহ (৪০), শাহাদাত হোসেন (২০) আহত হন বলে জানান তিনি। এসব হামলার ঘটনায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে নামধারী হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান রবিউল।
ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়ার নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ইউএনও জানান, কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এলে মামলা নেওয়া হবে।


