কানাডার দাবানলের ধোঁয়ায় কয়েক দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ঘন ধূসর কুয়াশায় ঢেকে থাকলেও রোববারের বিশ্বকাপ ফাইনালের ঠিক আগে নিউ জার্সি এলাকার আকাশ বেশির ভাগই পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে আশা করছেন আবহাওয়াবিদেরা। ওই অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বজ্রঝড় ঘন এই ধোঁয়া সরিয়ে দিতে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছেন তারা। তবে শনিবারও যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে অস্বাস্থ্যকর বায়ুর সতর্কতা বহাল ছিল।
বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, স্টেডিয়ামে বসে বিশ্বকাপ ফাইনাল উপভোগ করার আগ্রহ দেখিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ধারণা করা হচ্ছে, আয়োজক দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফাইনালে উপস্থিত থাকবেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও।
সে কারণেই সীমান্ত পেরিয়ে আসা ধোঁয়ার জন্য কানাডাকে দায়ী করে বক্তব্য দেওয়া অব্যাহত রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এমনকি বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা করা ট্রাম্প ধোঁয়ার ঘটনায় কানাডার ওপর শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন।
তবে কানাডার অন্টারিও প্রদেশের প্রধান ডাগ ফোর্ড এই হুমকিকে অগ্রহণযোগ্য ও দূরদর্শিতাহীন বলে সমালোচনা করেছেন।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনাল হওয়ার কথা। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোর জন্য স্টেডিয়ামটির নাম বদলে নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়াম রাখা হয়েছে। শনিবারও সেখানকার আকাশ ও বাতাস গত কয়েক দিনের মতোই ঘন কালো ধোঁয়ায় ভারী ছিল। প্রবল বজ্রবৃষ্টির পরও পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।
ওই বৃষ্টির কারণে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করা হয় এবং আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালের আগে স্পেন জাতীয় ফুটবল দলকে তাদের শেষ উন্মুক্ত অনুশীলন স্থগিত করতে হয়।
অ্যাকুওয়েদারের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ টাইলার রয়েস বলেন, শনিবারের ঝড়ের প্রবাহ স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনালের আগেই উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে অধিকাংশ ধোঁয়া সরিয়ে দেবে।
তিনি বলেন, ‘কিছু ধোঁয়া থেকে যেতে পারে, যার কারণে আকাশ সামান্য ঝাপসা দেখাবে। তবে তা খুবই হালকা হবে। যে ঘন ধোঁয়া চোখে পড়ার মতো ছিল এবং বায়ুর মান খারাপ করেছিল, তা নিউইয়র্ক নগরী বা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশির ভাগ এলাকায় থাকার আশঙ্কা নেই।’
ফ্লোরিডার টাম্পায় ডব্লিউএফএলএ টেলিভিশনের প্রধান আবহাওয়াবিদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ জেফ বেরারডেলিও রয়েসের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়েছেন। তিনি বলেন, ঝড়ের প্রবাহ বায়ুমণ্ডল পরিষ্কার করে দেবে। তবে খুব পাতলা কিছু ধোঁয়া থেকে যেতে পারে, যার গন্ধ বিশ্বকাপের দর্শকেরা বাতাসে অনুভব করতে পারেন।
বৃষ্টি থামার পর নেদারল্যান্ডসের পর্যটক জুস্ট টিমপার্স ও তার দুই ছেলে খোলা স্টেডিয়ামের বাইরে ছবি তুলছিলেন। টিমপার্স বলেন, ‘পরিস্থিতির উন্নতি না হলেও খেলোয়াড় ও দর্শকদের কোনো সমস্যা হবে না। অবশ্যই আমরা বায়ুর মানের বিশেষজ্ঞ নই। তবে এখন আমরা এই বায়ুতেই আছি। নেদারল্যান্ডস বা অন্য কোথাও সাইকেল চালানোর সময় যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তার চেয়ে এখানে আলাদা কিছু অনুভব করিনি।’
বায়ুমানের সূচক অনুযায়ী, শনিবার ইস্ট রাদারফোর্ডে সংবেদনশীল মানুষের জন্য বায়ু অস্বাস্থ্যকর ছিল। তবে রোববার তা উন্নত হয়ে মাঝারি মাত্রায় পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে। এই মাত্রায় সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি খুব সামান্য বা একেবারেই থাকে না।
বেরারডেলি বলেন, ‘এটি আর বিপজ্জনক থাকবে না। পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হবে।’
তবে ধোঁয়ার অতিক্ষুদ্র কণার প্রতি সংবেদনশীল মানুষের জন্য কিছু সমস্যা থাকতে পারে। বিশেষ করে সকালে তাদের বায়ুমানের সূচক পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়া চ্যানেলের মুঠোফোনভিত্তিক সেবা ও আবহাওয়াবিষয়ক ওয়েবসাইটের আবহাওয়াবিদ রব শ্যাকেলফোর্ড।
পরিবেশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ক্ল্যারিটি মুভমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহপ্রতিষ্ঠাতা ডেভিড লু বলেন, ‘মাঠের বায়ুর মান প্রতি ১০ মিনিট পরপর পরিমাপ করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি সেখানে বায়ুমান পর্যবেক্ষণসেবা দিচ্ছে।’
‘গত দুই দিনে পাওয়া পরিমাপে কখনো বায়ু সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে ছিল, আবার কখনো তা খুবই অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৃষ্টির কারণে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বায়ুমানের পরিমাপে উন্নতি দেখা যাবে’ বলে আশা করেন তিনি।
ফাইনাল শুরুর সময় তাপমাত্রা প্রায় ৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকতে পারে। এ সময় হালকা বাতাস বইবে এবং আর্দ্রতা কম থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বেরারডেলি বলেন, ‘বিশ্বকাপের জন্য এর চেয়ে ভালো আবহাওয়া প্রায় চাওয়াই যেত না।’
রয়েস ও বেরারডেলি দুজনই মনে করছেন, রোববারের ঘন ধোঁয়া দাবানলের কাছাকাছি এলাকাতেই কেন্দ্রীভূত থাকবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চল এবং বৃহৎ হ্রদসংলগ্ন কিছু এলাকার ওপর ধোঁয়া জমে থাকতে পারে।


