আসন্ন জাতীয় নির্বাচন কোন প্রক্রিয়ায় হবে তা নির্ধারণে আলাপ-আলোচনায় বসতে ‘বিএনপি প্রস্তুত’ বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শুক্রবার সন্ধ্যায় জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের কথা বলেছি। যে সুর আজকে আমরা বাজালাম, সেই সুর নিয়ে আমরা নির্বাচনে যাব। ঐক্যের সুর নিয়ে আমরা নির্বাচনের দিকে যাব। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে এবং এই ঐক্য যেন বজায় থাকে। আজকে ঐকমত্যে আমরা যেমন সনদ করলাম, নির্বাচনের ব্যাপারেও রাজনীতি বিভিন্ন দলের নেতারা বসে একটা সনদ করেন, কীভাবে নির্বাচন করবেন।’
এ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘সাংবিধানের ৬৫ (২) অনুচ্ছেদে বলা আছে বাংলাদেশের প্রত্যেক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকার মধ্যে সরাসরি প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে ৩০০ জন জাতীয় সংসদ সদস্য নিয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হবে। ৬৫ (৩) অনুচ্ছেদে আছে যারা নারী সদস্য থাকবে। কিন্তু এখন কেউ কেউ সেটা বর্ণনা করছে যে, নির্বাচন কমিশন শুধু নির্বাচন করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত—অন্য কিছু না। এটা সত্য! নির্বাচন কমিশন তো নির্বাচন পরিচালনা করবে কিন্তু কীভাবে করবে সেটা বর্ণিত আছে।’
তিনি বলেন, ‘সুতরাং জাতিকে বিভ্রান্ত করার কোনো সুযোগ নাই। প্রধান উপদেষ্টা তার পরেও যদি আলাপ-আলোচনা করতে চান, আমরা আলাপ-আলোচনায় বিশ্বাস করি।’
জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেয় ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিরা।
এর মধ্যে বিএনপি, জামায়াত, এলডিপি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, নাগরিক ঐক্য, এনডিএম, গণসংহতি আন্দোলন, জেএসডি, গণঅধিকার পরিষদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় গণফ্রন্ট, ইসলামী আন্দোলন, গণফোরাম, জাকের পার্টি, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, ভাসানী জনশক্তি পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোট, আমজনতার দলসহ মোট ২৫টি দল সনদে স্বাক্ষর করে কমিশনের প্রস্তাবিত সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার জানায়।
বিকেল পাঁচটার পর শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরা রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে একই মঞ্চে বসে দলিলটি অনুমোদন করেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ুম, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতির জোনায়েদ সাকি, জেএসডির শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপনসহ বিভিন্ন শীর্ষ নেতারা এতে স্বাক্ষর করেন।
তবে ভিন্নমতের কারণে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), সিপিবিসহ পাঁচচি দল এতে স্বাক্ষর করেনি।
এছাড়া অনুষ্ঠানের আগে নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়ালে বেশ কয়েকজন ‘জুলাই যোদ্ধা’ আহত হন।


