বান্দরবানে হামের রেড স্পট আলীকদমের কুরুকপাতায় ক্যাম্প বা অস্থায়ী হাসপাতাল বসিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। সিভিল সার্জন শাহীন হোসাইন চৌধুরী শনিবার রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, রোববার থেকে এই হাসপাতালে হামের রোগীদের নিবিড় চিকিৎসা সেবা দেওয়া শুরু হবে।
১০ শয্যা বিশিষ্ট এই ক্যাম্প হাসপাতাল স্থাপনের ফলে এখন আর দুর্গম এলাকাগুলো থেকে হামে আক্রান্তদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসতে হবে না বলেও জানান সিভিল সার্জন।
কুরুকপাতা বাজারে স্থাপিত এই ক্যাম্প হাসপাতালে তিনজন মেডিকেল অফিসার, তিনজন নার্স এবং একজন স্বাস্থ্য সহকারী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।
এ লক্ষ্যে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) হাসানের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসা টিম শনিবার কুরুকপাতা বাজারের উদ্দেশে যাত্রা করেছে।
সিভিল সার্জন জানান, পালাক্রমে বিভিন্ন চিকিৎসা টিম এই হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করবেন। হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এই ক্যাম্প হাসপাতাল চালু থাকবে।
কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ক্রাত পুং ম্রো জানান, এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে কুরুকপাতা ইউনিয়নের রিংলিত মড়ো পাড়া ও চেয়ারম্যান পাড়াসহ পাঁচটি ম্রো পাড়ার শিশুদের মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা দেয়। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত হয় কমপক্ষে ৪০ শিশু। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা সম্ভব হয় নি। শেষ পর্যন্ত অনেক কষ্টে ছয় শিশুকে তাদের অভিভাবকরা আলীকদম উপজেলা সদরে নিয়ে আসেন। সেখানে তারা চিকিৎসা নিচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, হামে আক্রান্ত হয়ে কুরুকপাতা ইউনিয়নেই তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ১০ এপ্রিল রিংলত পাড়ায় দুই ম্রো শিশু মারা যায়। পরদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পথে মারা যায় আরেক শিশু।
এমন পরিস্থিতিতে শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক শেখ ফজলে রাব্বি আলীকদম পরিদর্শন করেন।
তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনপ্রতিনিধি এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে মত বিনিময় করেন। এরপরই ক্যাম্প হাসপাতাল স্থাপনের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।
এই মত বিনিময় সভায় সিভিল সার্জন মো. শাহীন হোসাইন চৌধুরী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সিনিয়র অফিসার মো. ইশতিয়াক এবং আলীকদম উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম উপস্থিত ছিলেন।


