ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় নিখোঁজের ১০ দিন পর কাস্টমসের এক সিপাহীর ১৫ টুকরো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহগুলো তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে ভরে একটি পরিত্যক্ত পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছিল।
রোববার দুপুরে উপজেলার সোয়াইতপুর গ্রামে তার বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
নিহত রায়হান তালুকদার কমলাপুর কাস্টমস হাউজের সিপাহী ছিলেন। তিনি ফুলবাড়িয়া উপজেলার সোয়াইতপুর উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে। গত ২৪ জুলাই নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রায়হান গত বৃহস্পতিবার রাতে ছুটিতে বাড়িতে আসেন। রাতে বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণকারী রাজুকে নিয়ে নিজ ঘরে ছিলেন। পরদিন শুক্রবার কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে রাজুকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন।
তিন দিন পর সোমবার রায়হানের এক সহকর্মী তার চাচাতো বোন, কলেজশিক্ষক নাজমুন্নাহার বিউটিকে ফোন করে জানান, রায়হান কর্মস্থলে যোগ দেননি এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে মঙ্গলবার রাতে রায়হানের বড় ভাই নূরুল ইসলাম ফুলবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, রায়হানের কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুল এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।
রোববার সকালে রায়হানের বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ পূর্বে একটি পরিত্যক্ত পুকুরের দিক থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। তারা সেখানে গিয়ে পুকুরে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাগগুলো থেকে ১৫ টুকরো মরদেহ উদ্ধার করে।
ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরে কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুল এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন। তারা দুজনই পলাতক রয়েছেন। হত্যার পর মরদেহ ১৫ টুকরো করে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে ভরে পরিত্যক্ত পুকুরে ফেলে রাখা হয়।
তিনি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।


