ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর ‘দ্রুত’ দিল্লি সফরের সংবাদটি অস্বীকার করেছে হাইকমিশন। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন নিশ্চিত করেছে, দিনেশ ত্রিবেদী বর্তমানে ঢাকায় নিজ কর্মস্থলেই অবস্থান করছেন।
এর মাধ্যমে একাধিক ভারতীয় ও বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে তাকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো ‘ভিত্তিহীন’ হয়ে পড়েছে। এসব সংবাদে দাবি করা হয়েছিল, তিনি জরুরি আলোচনার জন্য আকস্মিকভাবে নয়াদিল্লি উড়াল দিয়েছেন।
এই বক্তব্য মূলত এমন কিছু সংবাদ প্রতিবেদনের পর এল, যাতে দাবি করা হয়েছিল ত্রিবেদী ৩১ জুলাই বিকালে ঢাকা ত্যাগ করেন। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধি এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গরের সঙ্গে দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার একটি বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি ঢাকা ছাড়েন বলে ওই সংবাদগুলোতে বলা হয়।
প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়, সার্জিও গরের সঙ্গে ‘অস্বাভাবিক দীর্ঘ’ বৈঠকের পরপরই ত্রিবেদী শুক্রবার বিকাল ৫টা ৫২ মিনিটে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে নয়াদিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হন। এমনকি এই তড়িঘড়ি প্রস্থানের কারণে কুরমিটোলা গলফ ক্লাবে তার পূর্বনির্ধারিত একটি গলফ খেলাও বাতিল করতে হয়েছিল বলে খবরে উল্লেখ করা হয়।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র, ভারত কিংবা বাংলাদেশের কোনো কর্মকর্তার পক্ষ থেকে গোর ও ত্রিবেদীর মধ্যকার বৈঠক নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এই আলোচনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।
২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ও তার দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর সম্প্রতি তিনি এ বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার আকঙ্ক্ষা প্রকাশ করার প্রেক্ষাপটে এই কূটনৈতিক তৎপরতা দেখা গেল।
উচ্চপর্যায়ের মার্কিন কূটনৈতিক তৎপরতা
মার্কিন ও ভারতীয় প্রতিনিধিদের এই বৈঠকটি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সার্জিও গরের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের ঠিক একদিন আগে অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকটি প্রায় ৪০ মিনিট স্থায়ী হয়।
বাংলাদেশে গরের তিন দিনের সফরসূচি ছিল অত্যন্ত ‘ব্যস্ত সূচির’। ৩০ জুলাই তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত একান্তে বৈঠকে মিলিত হন। এর পরপরই অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত সেশন অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই বৈঠকটি ছিল ১০ মিনিটের মতো। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আয়োজিত নৈশভোজ শুরু হওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টা আগে গর তা বাতিল করেন।
৩১ জুলাই ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকের পর, গর এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন ১১ জন মার্কিন কর্মকর্তাসহ কক্সবাজারে যান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে।
পরবর্তীতে শনিবার বিকালে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে গর ও ক্রিস্টেনসেন গুলশান-২ এর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মার্কেটের একটি হস্তশিল্পের শোরুম পরিদর্শন করেন এবং ইপিআই রেস্তোরাঁয় মধ্যাহ্নভোজ সম্পন্ন করেন।


