ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধান দুই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। তবে জনপ্রশাসন সংস্কার ও পুনর্গঠন নিয়ে দল দুটির প্রতিশ্রুতিতে বিশেষ কোনো নতুনত্ব দেখছেন না বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, অতীতেও এমন অনেক গালভরা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যা পরবর্তীতে আলোর মুখ দেখেনি। ফলে এই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তা নিয়ে আশাবাদী হওয়ার বিশেষ কারণ নেই। গত শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি জনপ্রশাসনকে আমূল বদলে ফেলার অঙ্গীকার করেন। বিএনপির ইশতেহারে মেধাতন্ত্রের বাংলাদেশ বিনির্মাণ, স্বচ্ছতার সঙ্গে দ্রুততম সময়ে পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগ,…
Author: আরিফুল ইসলাম মিঠু
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে জনমনে থাকা যাবতীয় সংশয় ও অনিশ্চয়তা কাটাতে দৃশ্যমান প্রস্তুতি শুরু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ভোটের পরপরই নির্বাচিত সরকারের কাছে কোনো ধরনের বিলম্ব ছাড়াই দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে নিজেদের অবস্থান জানাচ্ছে বর্তমান প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে পরবর্তী মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য আগাম যানবাহন প্রস্তুত করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে পরবর্তী মন্ত্রিসভার সদস্যদের ব্যবহারের জন্য সরকারি মনোগ্রাম ও ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ড যুক্ত প্রায় ৫০টি গাড়ি প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গত সোমবার সরকারি পরিবহন অধিদপ্তরকে এই ৫০টি গাড়ির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার জন্য দাপ্তরিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’-এর…
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি একটি বিশেষ প্রতিশ্রুতি দেন, যার উদ্দেশ্য ছিল পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে তাঁর প্রশাসনের একটি স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি করা। তিনি বলেছিলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা হবে নতুন সরকারের মূল ভিত্তি। এর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তাঁর উপদেষ্টা পরিষদের সকল সদস্য তাঁদের আয় ও সম্পদের বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশ করবেন। মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি এখনো পূরণ হয়নি। সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বারবার আশ্বাস সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত একজন উপদেষ্টারও সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি। বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্পদের বিবরণ নিয়ে…
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য ১১টি সংস্কার কমিশন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। অথচ পাঁচটি কমিশনের সুপারিশ নিয়ে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো আলোচনাই করেনি। ফলে অনিশ্চিত হয়ে আছে এসব কমিশনের সুপারিশ। এই কমিশনগুলো হচ্ছে শ্রম, নারী, গণমাধ্যম, স্বাস্থ্য এবং স্থানীয় সরকার সংস্কার বিষয়ক কমিশন। এর মধ্যে নিজেদের সুপারিশের ভাগ্য জানতে চেয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে চিঠি লিখেছেন কমিশনগুলোর প্রধানরা। কিন্তু এখনো তারা সেই চিঠির কোনো জবাব পাননি। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে বিভিন্ন খাতের সমস্যা দূর করতে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। আর এই সংস্কারের সুপারিশ তৈরির জন্য প্রথম দফায় গঠন করে ছয়টি সংস্কার কমিশন। এগুলো ছিল সংবিধান, বিচারব্যবস্থা,…
সরকারি ওয়েবসাইটগুলো থেকে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত শেখ হাসিনার শাসনামলের তথ্য–উপাত্ত সরিয়ে ফেলছে অন্তর্বর্তী সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর ২৫ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ওয়েবসাইট এরই মধ্যে আগের সরকারের রেকর্ড ‘পরিষ্কার’ করেছে। অন্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগও ফাইল মুছে ফেলছে বা ব্লক করে দিচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরই ওয়েবসাইট থেকে শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবুর রহমানের প্রোফাইল, ছবি ও ভিডিও সরানোর কাজ শুরু হয়। কিন্তু বিভিন্ন ওয়েবসাইটে এখনো আগের সরকারের অনেক তথ্য রয়ে যাওয়ায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ই-গভর্নেন্স শাখা ২৪ এপ্রিল একটি সার্কুলার জারি করে নির্দেশ দেয় সব রেকর্ড ‘সম্পূর্ণভাবে অপসারণের’। সার্কুলারে উপসচিব শেখ…
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন–ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিশ্লেষকরা বলছেন, আগে বেতন বাড়ানো কথা বলা অথবা এখন তা থেকে সরে আসা, দুটি সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে আমলে না নিয়ে। রোববার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার।’ আগে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। এখন সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় বেড়েছে ক্ষোভ। অর্থনীতিবিদ ও সুশাসন বিশেষজ্ঞরাও প্রশ্ন তুলেছেন—এত বড় আর্থিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে…
জাতীয় নির্বাচনের তফসিলের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে গুরুত্বপূর্ণ একটি নীতিগত পরিবর্তন এনেছে সরকার। যেখানে আমলাতান্ত্রিক নিয়োগের সুপারিশের জন্য গঠিত কমিটি বাতিল করা হয়েছে। যার মাধ্যমে প্রশাসনিক রদবদলের ক্ষমতা কার্যত আমলাতন্ত্রের হাতেই ফিরিয়ে দেওয়া হলো। এই সিদ্ধান্তের ফলে, বিলুপ্ত হলো উচ্চ পর্যায়ের ‘পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যাফেয়ার্স কমিটি’। গত জানুয়ারিতেই যেটি জেলা প্রশাসক (ডিসি), বিভাগীয় কমিশনার, যুগ্মসচিব এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়োগ, বদলি ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনার সংস্কৃতি বন্ধ করার জন্য গঠন করেছিল সরকার। এই কমিটি বাতিল করার ফলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয় পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের আগের ভূমিকায় ফিরে এসেছে। কেন জনপ্রশাসন বিষয়ক কমিটি বাতিল…
চলন্ত ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার ঘটনা বাংলাদেশে নতুন নয়। বাংলাদেশ রেলওয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। কিন্তু তার সমাধান হওয়ার আগেই এখন নতুন সংকটে পড়তে হয়েছে রেল কর্তৃপক্ষকে। আর সেটি হলো, দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন ঘিরে ট্রেন আটকে দেওয়া, ট্রেনে ভাঙচুর চালানো এবং পাথর নিক্ষেপ। গত সোমবার কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলাকে জেলা ঘোষণার দাবিতে রেলপথ অবরোধ করেন এলাকাবাসী। বেলা ১১টার দিকে ভৈরব রেলস্টেশনে নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকামুখী আন্তঃনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেন আটকে ভাঙচুর চালানো হয়। যাত্রীবোঝাই ট্রেনটি লক্ষ্য কতরে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। এতে অন্তত ২০ যাত্রী আহত হন, ক্ষতিগ্রস্ত হয় বেশ কয়েকটি বগি। এই ঘটনার ভিডিও…
বাংলাদেশে দুর্ঘটনার তদন্তে প্রতিষ্ঠান বা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কমিটিতে রাখার রেওয়াজ দীর্ঘদিনের। তবে এই রেওয়াজ মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। এসব কমিটি দুর্ঘটনার আসল কারণ খুঁজে বের করতে পারে না, দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে পারে না আবার কোনো ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ারও অভিযোগ আছে। রোববার ফার্মগেটে মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড পড়ে এক ব্যক্তি নিহতের ঘটনা নতুন করে প্রতিষ্ঠান নির্ভর বা আমলা-নির্ভর তদন্ত কমিটির গঠন নিয়ে প্রশ্ন সামনে আসে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমলা-নির্ভর তদন্ত কমিটি বন্ধ করতে হবে, নইলে মেট্রোরেলসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যাবে না। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ফার্মগেটে মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাডে খুলে পড়ার পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু তদন্তে কী কারণে…

