বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে অকার্যকর হয়ে পড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুনরায় গঠনে তৎপর রয়েছে সরকার। ইতিমধ্যে কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ দিতে আবেদনপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দুদকের পদ পেতে ৩০০-এরও বেশি মানুষ আবেদন করেছেন, যা নিয়ে বিস্মিত সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাই। প্রশ্ন উঠেছে, এই সংস্থায় কী এমন আকর্ষণ আছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব তানভীর আহমেদ টাইমস অব বাংলাদেশকে আবেদনের সংখ্যার তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘আমরা এখনো এসব যাচাই-বাছাই করিনি। এর মধ্যে আগের কেউ আছেন কি না সে ব্যাপারেও নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।’ তবে চেয়ারম্যান হতে কতজন আবেদন করেছেন, কতগুলো আবেদন কমিশনার হতে পড়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে বলতে…
Author: আরিফুল ইসলাম মিঠু
আইনের খসড়া কেমন হবে তা নিয়ে এখনো একটি লাইনও লেখা হয়নি। অথচ তার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে নিয়ন্ত্রণের সরকারি উদ্যোগ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে বিতর্কটা আইন নিয়ে নয়, শুরু হয়েছে আইন যারা তৈরি করছেন তাদের নিয়ে। ডিজিটাল দুনিয়া নিয়ন্ত্রণে নতুন আইনি কাঠামো তৈরি করতে সরকার ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটিতে সরকারের উচ্চপদস্থ আমলা আর আইনজীবী থাকলেও কোনো সাংবাদিক কিংবা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা কোনো সংস্থার প্রতিনিধিকে রাখা হয়নি। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দাবি, ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি থেকে যে গুজব ও ভুল…
নির্বাচনী ইশতেহারে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতায় আসার পর এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বিএনপি সরকার। এমনকি তাদের প্রথম বাজেটেও এই প্রতিশ্রুতির কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া অন্য সব স্থানীয় সরকার সংস্থায় গত আড়াই বছর ধরে কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি নেই। এতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক সেবা। অথচ গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত হওয়া এই সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছে না। নির্বাচনের এই বিলম্ব পূর্ববর্তী সরকারগুলোর তুলনায় সম্পূর্ণ বিপরীত। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচনের পর, সরকার গঠনের মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচন শুরু হয়েছিল। একইভাবে, ২০১৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনের মাত্র এক মাস…
ক্ষমতা বদলের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশে পরিবহন মালিকরা তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের কাছে ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনের কঠোর শাস্তিগুলো বাতিলের তদবির করছেন। ব্যাপক আন্দোলনের মুখে এই আইনটি পাস করা হয়েছিল। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ট্রাফিক নিয়ম লঙ্ঘনের জরিমানা বর্তমান হারের প্রায় দশ ভাগের এক ভাগে নামিয়ে আনার জন্য চাপ দিচ্ছে। অর্থাৎ ১০,০০০ টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র ১,০০০ বা ১,৫০০ টাকা করার দাবি তাদের। একই সঙ্গে অজামিনযোগ্য ট্রাফিক অপরাধগুলো জামিনযোগ্য করার দাবিও তুলছে তারা। ২০১৮ সালের আইনটি পাস হওয়ার পর থেকেই পরিবহন মালিকেরা শাস্তি শিথিল করার জন্য তদবির করে আসছিলেন, কিন্তু এ ধরনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র জনমতের কারণে তারা…
প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য ভারত ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দিলেও দু’দেশের মধ্যে কবে থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হবে, সেই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকে। সে সময় থেকে বন্ধ আছে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলাচলকারী তিনটি যাত্রীবাহী ট্রেন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে ভারতীয় ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করার ঘোষণা দেন। দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ২৮ জুন থেকেই বাংলাদেশিরা আবার ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন করতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে পাঁচটি ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের মাধ্যমে আবেদন নেওয়া হবে।…
রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের জেলাগুলোর পরিবহন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে মেট্রোরেলের পাশাপাশি এবার মনোরেল নেটওয়ার্ক চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি সরকার। এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বৃহত্তর ঢাকার দীর্ঘমেয়াদি পরিবহন নীতি—’রিভাইজড স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান’ (আরএসটিপি) আরও একবার সংশোধন করা হচ্ছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, পুরান ঢাকার মতো জনবহুল এলাকা—যেখানে বাস সেবা সীমিত এবং মেট্রোরেলের কোনো সুবিধা নেই, সেসব এলাকায় মনোরেল ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর পাশাপাশি যাত্রীদের যাতায়াত সহজ ও নির্বিঘ্ন করতে মনোরেল লাইনগুলোকে বিদ্যমান মেট্রোরেল স্টেশনগুলোর সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মনোরেল নির্মাণের খরচ মেট্রোরেলের তুলনায় অনেক কম। তা ছাড়া এটি সহজে আঁকাবাঁকা ও সরু পথ দিয়েও চলাচল…
সড়ক ব্যবস্থাপনার কাজ উন্নত করতে দেশের সব গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) সংযোজনের নির্দেশ দিয়েছে সড়ক পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সোমবার বিআরটিএ একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে এই নির্দেশ দেয়। এতে বলা হয়, আগামী ১ আগস্ট থেকে সব ধরনের গণপরিবহনে জিপিএস সংযুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি জিপিএস বাধ্যতামূলকভাবে চালু রাখতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে সড়ক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকারের নতুন এই উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, জিপিএসের কারিগরি বিবরণ বিআরটিএর স্থানীয় কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করতে হবে। বিআরটিএর পরিচালক (প্রকৌশল) মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘জিপিএস লাগানোর কথা বলা হয়েছে শুধুমাত্র গণপরিবহনে, অর্থাৎ বাসে।’ তিনি জানান, সারা…
সংবাদকর্মী মেরিনা মিতুর জীবনে গতি আর স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে মেট্রোরেল। মিরপুরের মাটিকাটা থেকে মতিঝিলের অফিস যাত্রা এখন আর সমস্যা মনে হয় না তার কাছে। মাটিকাটা থেকে পল্লবী পর্যন্ত তিনি চলে আসেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায়। এরপর চড়েন মেট্রোরেলে। আগে মোটরসাইকেলেও এই পথে যেখানে কখনো কখনো দুই ঘণ্টা লেগে যেত, সেখানে এখন আধা ঘণ্টার ব্যাপার। টাইমস অব বাংলাদেশকে মিতু বলেন, ‘গরমে যানজটে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে না। মেট্রোতে এসি থাকায় তেমন কোনো কষ্ট নেই। এখন মোটরসাইকেলও খুব একটা চালাই না।’ বাড্ডার বাসিন্দা তায়েব মিল্লাত হোসেনও এমন স্বস্তিতে থাকার আশা করেছিলেন। কারণ, সেখান দিয়ে পাতাল পথে মেট্রোরেলের আরও একটি লাইন চলতি বছরেই চালু হয়ে যাওয়ার কথা…
সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে জনপ্রিয় করার চেষ্টার অংশ হিসেবে গ্রাহকদের জমানো অর্থের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত এককালীন তোলার সুযোগ দিয়েছে সরকার। অবশ্য এতে পেনশন কিছুটা কমে যাবে। কিন্তু অবসরে যাওয়ার পর এককালীন মোটা অঙ্কের টাকা পেলে জরুরি প্রয়োজন মেটাতে সহায়ক হবে বলে আশা করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। আবার বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আনা প্রগতি স্কিমে আউটসোর্সিং সেবাকর্মীদের জন্য মাসে ৫০০ টাকা জমার সুযোগও রাখা হয়েছে। রবিবার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে পেনশন বিধিমালা সংশোধন করে এককালীন উত্তোলনের এই পরিবর্তনগুলো আনে। এই এককালীন টাকা তোলা যাবে ৬০ বছর বয়সে পেনশন চালু হওয়ার পর। অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ফেরদৌস আলম টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘জাতীয় পেনশন স্কিমগুলোকে জনপ্রিয়…
পরিচালনগত অদক্ষতা, রাজস্ব ফাঁকি এবং ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপের মুখে রেলের আয় বাড়াতে নতুন বিজ্ঞাপন নীতিমালা চালু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। যাত্রী ভাড়া ও পণ্য পরিবহনের বাইরে আয়ের উৎস বাড়াতে এবং পুরো রেল নেটওয়ার্কে বাণিজ্যিক সাইনেজের ওপর নজরদারি জোরদার করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা লোকসান, সম্পদ ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, টিকিট বিক্রিতে অনিয়ম এবং রেলের বাণিজ্যিক সম্পত্তির সঠিক ব্যবহার না হওয়ার মতো বিভিন্ন উদ্বেগের মধ্যেই এই পদক্ষেপ এল। গত এক দশকে সরকার নতুন রেললাইন নির্মাণ, ডুয়েল-গেজ প্রকল্প, সিগন্যালিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং স্টেশন উন্নয়নের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে। তবে ধীরগতির প্রকল্প বাস্তবায়ন, পুরোনো অবকাঠামো, জনবল সংকট এবং বাণিজ্যিক দক্ষতার অভাবের…

