প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য ভারত ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দিলেও দু’দেশের মধ্যে কবে থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হবে, সেই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকে। সে সময় থেকে বন্ধ আছে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলাচলকারী তিনটি যাত্রীবাহী ট্রেন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে ভারতীয় ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করার ঘোষণা দেন।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ২৮ জুন থেকেই বাংলাদেশিরা আবার ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন করতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে পাঁচটি ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের মাধ্যমে আবেদন নেওয়া হবে।
ঢাকা-কলকাতার মধ্যে মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করছে ২০০৮ সাল থেকে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তিনটি ট্রেন মৈত্রী এক্সপ্রেস, বন্ধন এক্সপ্রেস এবং মিতালী এক্সপ্রেস চলাচল করত। ঢাকা থেকে কলকাতার মধ্যে চলাচল করত মৈত্রী এক্সপ্রেস। অন্যদিকে, খুলনা থেকে কলকাতার মধ্যে চলাচল করত বন্ধন এক্সপ্রেস। এ ছাড়া চিলাহাটি থেকে নিউ জলপাইগুড়ি চলাচল করত মিতালী এক্সপ্রেস।
ভারতে বিদেশি পর্যটকদের তালিকায় শীর্ষ পাঁচে ছিলেন বাংলাদেশিরা। প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ লাখ মানুষ ভারতে ভ্রমণ করে থাকেন। ভারত সরকারের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ২১ লাখেরও বেশি এবং ২০২৪ সালে ১৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি পর্যটক ও দর্শনার্থী ভারত ভ্রমণ করেছেন। বাংলাদেশিরা মূলত চিকিৎসা, পর্যটন, শিক্ষা এবং ব্যবসার উদ্দেশ্যে ভারতে গিয়ে থাকেন।
রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, টুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ার ঘোষণা এলেও বাংলাদেশ ও ভারতের মেধ্যে ট্রেন চলাচলের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি বলেন, অন্তবর্তী সরকারের ক্ষমতায় আসার পর রেলওয়ে মন্ত্রণালয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতকে ট্রেন চালু করার প্রস্তাব দেয়। সে সময় ভারতের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ট্রেন চালুর বিষয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো আলোচনাও হয়নি বলে জানান রেল সচিব।
ভারতের হাইকমিশনার বলেন, প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনায় ভারতীয় ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের মাধ্যমে ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন জমা দেওয়া যাবে। পর্যায়ক্রমে অন্য শহরে ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলোতেও এ কার্যক্রম চালু হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর ভারতীয় দূতাবাস ঘেরাও এবং ভিসা কেন্দ্রের সামনে বিভিন্ন ব্যানারে একাধিকবার বিক্ষোভের মুখে ভারত বাংলাদেশের সব ধরনের ভিসা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। পরে ভিসা সেন্টারগুলো চালু হলেও মূলত মেডিকেল ভিসা এবং কিছু জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অন্যান্য ভিসা বন্ধ রাখে ভারত।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন পরিচালক (প্রশাসন ও অপারেশন) রাহেনুল ইসলাম টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আগে পাঁচটি রুটে বাস চলাচল করত। তবে জুলাই অভ্যুত্থানের পর ভিসার পরিধি কমালে বাসেরও যাত্রী কমে আসে। এখন ঢাকা-কলকাতা রুটে বাস চলাচল করছে।’ এদিকে বাসের পাশাপাশি আকাশপথে ভারতে যাচ্ছেন বাংলাদেশিরা।


