সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে আপত্তি জানিয়ে ‘ওয়াক আউট’ করেছে বিরোধী দল। বের হয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এ বিষয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, এই সংসদ জুলাই শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে এবং যারা অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর ছিলেন বা হত্যাকাণ্ডে সহযোগী ছিলেন, তাদের সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
রাষ্ট্রপতির বিষয়ে আপত্তির কারণ তুলে ধরে তিনি বলেন, তিনটি কারণে তারা রাষ্ট্রপতিকে ‘অপরাধী’ মনে করেন। প্রথমত, তার অভিযোগ, অতীতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি কোনো প্রতিবাদ বা কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।
শফিকুর রহমান বলেন, প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রের অভিভাবক। অভিভাবক হিসেবে তিনি রাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রতি জঘন্য অপরাধ করেছেন।
দ্বিতীয় কারণ হিসেবে তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রসঙ্গ তোলেন। তার দাবি, সেই ভাষণে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন বলে রাষ্ট্রপতি জানিয়েছিলেন এবং তা মঞ্জুর করার কথাও বলেন। তবে পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সেই বক্তব্য অস্বীকার করেন।
এ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, দেশের প্রেসিডেন্ট মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হওয়ার পরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে থাকার আর কোনো নৈতিক অধিকার থাকে না।
তৃতীয় কারণ হিসেবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি একটি অধ্যাদেশে সই করেছিলেন যেখানে নির্বাচনের পর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একদিকে সংস্কার পরিষদের সদস্য এবং একই সঙ্গে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তার দাবি, ওই অধ্যাদেশ অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকতে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ছিল, কিন্তু তা করা হয়নি।
তিনি বলেন, ৭০ ভাগ মানুষ এই পক্ষে ভোট দিয়েছে। তিনি ৭০ ভাগ জনগণকে অপমান করেছেন।
শফিকুর রহমান জানান, এ কারণগুলো উল্লেখ করে তারা স্পিকারকে রাষ্ট্রপতির ভাষণ সংসদে না দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সেই অনুরোধ রাখা হয়নি।
তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষুব্ধ হয়ে সংসদ থেকে বের হয়ে এসেছি। আগামীতে এই সংসদে কোনো অন্যায়কে আমরা বরদাস্ত করব না।’
এদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সংসদের কার্যক্রমের শুরু থেকে তারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে সব কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন এবং বক্তব্যও দিয়েছেন। তবে রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিষয়ে তাদের আপত্তি ছিল।
তিনি বলেন, ‘এই সংসদটা হচ্ছে ফ্যাসিবাদমুক্ত সংসদ। হাজারো মানুষের রক্তের ওপর দিয়ে আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আমরা এই সংসদ পেয়েছি।’
নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, তারা স্পিকারের কাছে অনুরোধ করেছিলেন যেন বিরোধীদলীয় নেতা এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পান। কিন্তু সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, ‘এর প্রতিবাদস্বরূপ আমরা সেখান থেকে ওয়াক আউট করেছি।’ বৃহস্পতিবার সংবিধান অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ শুরু করার সময় ওয়াক আউট করেন তারা।
১১-দলীয় নির্বাচনী জোটের সংসদ সদস্যরা সংসদে দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও বিক্ষোভ করেন। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।


