বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগের দাবি জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
বুধবার বিশেষ বাহক ও রেজিস্ট্রি ডাকযোগে তিনি এ আবেদন জমা দেন। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও আইন সচিবের কাছেও চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
আবেদনে শিশির মনির বলেন, দেশের বিচারব্যবস্থায় প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান তৈরি হয়েছে এবং মামলার দীর্ঘসূত্রতার কারণে বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের সমন্বয়ে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট যাত্রা শুরু করে। সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপিল বিভাগের বিচারপতি নিয়োগ করা হয়। তবে আপিল বিভাগের বিচারপতির সংখ্যা সংবিধানে নির্দিষ্ট করা হয়নি। সংবিধানের ৯৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রয়োজন অনুযায়ী আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ করতে পারেন।
আবেদনে বলা হয়, ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর চারজন বিচারপতিকে নিয়ে আপিল বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। সে সময় আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল চার হাজার ৫৬টি এবং দেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ছয় কোটি ৪৩ লাখ।
বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি ৮১ লাখ এবং আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজার ৭১৩টি। অথচ বর্তমানে বিচারপতির সংখ্যা মাত্র চারজন।
সুপ্রিম কোর্টের ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে আবেদনে বলা হয়, ২০০৯ সালে আপিল বিভাগে ১১ জন বিচারপতি দায়িত্ব পালন করতেন এবং তখন বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল পাঁচ হাজার ২৬০টি। ২০১১ সালে ১০ জন বিচারপতির বিপরীতে মামলা ছিল ১২ হাজার ৪৪১টি। ২০১৩ সালে ১০ জন বিচারপতির অধীনে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৩৩৮টি। ২০১৭ সালে নয়জন বিচারপতির সময়ে বিচারাধীন মামলা ছিল ১৬ হাজার ৫৬৫টি। ২০২২ সালে নয়জন বিচারপতির বিপরীতে মামলার সংখ্যা বেড়ে হয় ১৯ হাজার ৯২৮টি। আর ২০২৪ সালে বিচারাধীন মামলা বেড়ে দাঁড়ায় ৩১ হাজার ১২০টিতে, যদিও তখন আপিল বিভাগে বিচারপতি ছিলেন মাত্র আটজন।
শিশির মনির বলেন, ‘বর্তমানে আইনের বিভিন্ন বিশেষায়িত শাখা-প্রশাখার বিকাশ ঘটেছে। ফলে কার্যকর বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত বেঞ্চ গঠন প্রয়োজন। কিন্তু বিচারপতির স্বল্পতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।’
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রতিবেশী ভারত গত ১৬ মে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধি-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে। এর মাধ্যমে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির অনুমোদিত সংখ্যা ৩৪ থেকে বাড়িয়ে ৩৮ করা হয়েছে।
এসব বিবেচনায় বিচারাধীন মামলার জট কমিয়ে বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আপিল বিভাগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন জানানো হয়।


