দেশের প্রতিটি নাগরিকের দোরগোড়ায় আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার ‘ন্যাশনাল হেলথ কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
বুধবার চীনের শি’আনে অনুষ্ঠিত ‘ডিজিটাল অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্ট ইন্টিগ্রেশন ফর হেলথ-টুওয়ার্ডস অ্যা নিউ কোওপারেটিভ ইকোসিস্টেম এলং দ্য সিল্ক রোড’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে স্বাস্থ্যখাতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, ন্যাশনাল হেলথ কার্ড চালু হলে দেশের যেকোনো প্রান্তে অবস্থানরত রোগীর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য তথ্য চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে দেখতে পারবেন। এতে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা আরও দ্রুত, নির্ভুল ও সমন্বিত হবে।
তিনি বলেন, এটি শুধু প্রযুক্তিগত সুবিধা নয়, বরং স্বাস্থ্যসেবায় সমতা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সরকারের লক্ষ্য রাজধানীর একটি আধুনিক হাসপাতালে যে মানের চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও যেন একই মানের স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারেন।
ফকির মাহবুব আনাম আরও জানান, সরকার মানবাধিকার, নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে ভিত্তি করে একটি মানবকেন্দ্রিক জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নীতি প্রণয়নের কাজ করছে। পাশাপাশি ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের সঙ্গে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ডেটা প্রটেকশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি এবং এআইভিত্তিক সমাধানের সমন্বয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। একটি বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
চীন সরকারের অর্থায়নে বিশ্ব ইন্টারনেট কনফারেন্স (ডব্লিউআইসি) সচিবালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই ফোরামে চীনের সাইবারস্পেস প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা, শানসি প্রদেশের নেতা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ (ডব্লিউএইচও) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও চীনা গ্লোবাল মিডিয়া আউটলেটগুলোর বরাতে জানা যায়, বেইজিংয়ের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই)-এর আওতায় স্বাস্থ্যখাতকে ডিজিটালাইজড করার অন্যতম প্রধান মাইলফলক এই ‘ডিজিটাল হেলথ ওয়ার্কিং গ্রুপ’।
২১–২২ জুলাই অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাড়াও কম্বোডিয়া, আলজেরিয়া, জাম্বিয়া, কিউবা, নিকারাগুয়া, মরক্কো, সুদান, তিউনিসিয়া, রাশিয়া ও ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


