পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ফার্মেসি বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (১৮ ব্যাচ) নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে ১৭ ব্যাচের (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ) কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
র্যাগিংয়ের শিকার হয়ে প্যানিক অ্যাটাকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নবীন শিক্ষার্থীর নাম মুশফিকুর রহমান তুহিন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন ফার্মেসি বিভাগের সোহানুর, সাকিব, জাহিদ, তানিম, ইউনুস, মুশফিক ও সাইদুরসহ আরও কয়েকজন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে ১৭ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী ১৮ ব্যাচের সব ছাত্রকে বিকাল সাড়ে ৩টার মধ্যে পাবনা পৌর সদরের বাংলা ক্লিনিক এলাকার একটি মেসে উপস্থিত হতে নির্দেশ দেন।
নবীন শিক্ষার্থীরা সেখানে উপস্থিত হলে ১৭ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের ভুল ধরতে থাকেন। তারা উচ্চস্বরে কথা বলেন, গালিগালাজ করেন, মানসিকভাবে হেনস্তা করেন।
একপর্যায়ে মানসিক চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েন মুশফিক। তিনি প্রচুর ঘামতে থাকেন, প্যানিক অ্যাটাক করেন। প্রথমদিকে সিনিয়ররা বিষয়টি আমলে নেননি। পরবর্তী সময় অবস্থার অবনতি হলে রাত আটটার দিকে তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসক র্যাগিংয়ের ঘটনা শুনে তাৎক্ষণিক পুলিশকে খবর দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষকরা পাবনা জেনারেল হাসপাতালে উপস্থিত হন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অবস্থার উন্নতি না হলে রাত ১১টায় তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
১৮ ব্যাচের একাধিক নবীন শিক্ষার্থী জানান, সিনিয়ররা মেসে ডেকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন, মানসিক চাপ সৃষ্টি করেন। তবে শারীরিকভাবে কাউকে নির্যাতন করা হয়নি। মুশফিক আগে থেকেই অসুস্থ থাকায় মানসিক চাপের কারণে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি। তারা গা ঢাকা দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক কামরুজ্জামান খান বলেন, ‘হাসপাতালে গিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবেই র্যাগিংয়ের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


