অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির শেষ হিসাব খাদ্য নিরাপত্তার মধ্যেই নিহিত বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ।
শনিবার দুপুরে কুমিল্লা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ যত অর্থ-সম্পদই অর্জন করুক না কেন, ক্ষুধা নিবারণই জীবনের মৌলিক সত্য। খাদ্য উৎপাদন, মৎস্য, মাংস ও ডিম উৎপাদনের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের আধুনিক সেচব্যবস্থাভিত্তিক কৃষি উৎপাদনের সূচনা কুমিল্লা থেকেই, যার পথিকৃৎ ছিলেন আখতার হামিদ খান। তার উদ্যোগে সমবায়ভিত্তিক সেচ ও কৃষি উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়, যা পরবর্তীতে সারা দেশের জন্য অনুসরণীয় মডেলে পরিণত হয়।’ তিনি বলেন, ‘কুমিল্লার সেই ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে কৃষি ও খাদ্য খাতে আরও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আমি দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা প্রদর্শন করব।’
মন্ত্রী বলেন, ‘কুমিল্লায় প্রথম রপ্তানিমুখী কারখানা আমিই স্থাপন করেছি। সে সময় আপনাদের উৎসাহ ও সহযোগিতা পেয়েছি। আজ কুমিল্লায় এক ধরনের শিল্প বিপ্লব ঘটেছে—অসংখ্য কারখানা গড়ে উঠেছে। এই অগ্রগতি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, মন্ত্রী হিসেবে নিজের অবস্থান থেকে কুমিল্লার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের গণদাবি—কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা বাস্তবায়নে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালনের আশ্বাস দেন।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমার স্ব স্ব মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সঠিক ও ফলপ্রসূভাবে পরিচালনার জন্য আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। আপনারা সহযোগিতা করলে আমি আরও ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারব বলে বিশ্বাস করি।’
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিক, কুমিল্লা বিএনপির মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
এদিকে রমজান উপলক্ষে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রির কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ।
উদ্বোধন শেষে তিনি স্টল পরিদর্শন করেন এবং পণ্যের মান ও মূল্য সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন, যাতে সাধারণ মানুষ রমজানে ন্যায্যমূল্যে মানসম্মত খাদ্যসামগ্রী পেতে পারেন।


