সড়ক ব্যবস্থাপনার কাজ উন্নত করতে দেশের সব গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) সংযোজনের নির্দেশ দিয়েছে সড়ক পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
সোমবার বিআরটিএ একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে এই নির্দেশ দেয়। এতে বলা হয়, আগামী ১ আগস্ট থেকে সব ধরনের গণপরিবহনে জিপিএস সংযুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি জিপিএস বাধ্যতামূলকভাবে চালু রাখতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে সড়ক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকারের নতুন এই উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, জিপিএসের কারিগরি বিবরণ বিআরটিএর স্থানীয় কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করতে হবে।
বিআরটিএর পরিচালক (প্রকৌশল) মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘জিপিএস লাগানোর কথা বলা হয়েছে শুধুমাত্র গণপরিবহনে, অর্থাৎ বাসে।’ তিনি জানান, সারা দেশে বাসের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজারের মতো।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. জোবায়ের মাসুদ বলছেন, ইতোমধ্যে ১০ শতাংশ বাস মালিক নিজেরাই জিপিএস সংযোজন করেছেন।
তিনি বলেন, ‘জিপিএস লাগালে যে সুবিধাটা হতো সেটা হলো, এটা লাগালে চালকরা ভয় পাবে। এটার আরেকটা উপকার আছে—কোনো চালক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে কোথায় যাচ্ছে তা পুলিশ জানতে পারবে।’
বিএনপি সরকারের পাশাপাশি আগের সরকারগুলো নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার কথা বারবার বললেও মাঠের বাস্তবতা পুরোপুরি আলাদা। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাব বলছে, ২০২৫ সালে দেশের সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে ৯ হাজার ১১১ জন এবং আহত হয়েছে আরও ১৪ হাজার ৮১২ জন। প্রতি বছরে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে বলেও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
দুর্ঘটনার একটি অন্যতম কারণ হিসেবে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচলের বিষয়টি সামনে এসেছে। বিআরটিএ পণ্যবাহী মোটরযানের ইকোনমিক লাইফ ২৫ বছর এবং বাসের ক্ষেত্রে তা ২০ বছর নির্ধারণ করে মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন নিষিদ্ধ করার জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছর, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের পৌনে দুই বছর এবং চলতি বিএনপি সরকারের তিন মাসে এ নিয়ে চোখে পড়ার মতো কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।
বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর নিরাপদ সড়ক সংক্রান্ত দেশের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী সংস্থা ‘জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল’-ই গঠন করা হয়নি।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জাতীয় মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহনসহ নসিমন-করিমন বন্ধ করার ঘোষণা দিলেও সেটি পুরোপুরি কার্যকর করা যায়নি।
নতুন এই উদ্যোগ নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কতটা কাজে লাগবে তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান।
তিনি বলছেন, ‘জিপিএস দরকার আছে, তবে শুধু জিপিএস দিয়ে কোনো কাজ হবে না যদি না আমরা সড়ক থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি তুলে না নিই।’
সরকারের টেকসই কোনো পরিকল্পনা নেই বলে মত দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘যার কারণে কোনো একক উদ্যোগ কাজ করে না, জিপিএসও কাজ করবে না।’


