রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে মাত্র ৫-৬ হাজার টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে শরিফুল ইসলাম হীরা নামে এক ব্যক্তিতে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।
শনিবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার ব্যস্ততম তোরাই মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রকাশ্যে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
নিহত শরিফুল ইসলাম হীরা গোয়ালন্দ উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকার মো. জাবেদ আলীর ছেলে। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে গোয়ালন্দ পৌরসভার তোরাই মোড়-কাজীপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে শরিফুলের সঙ্গে কুমড়াকান্দি মল্লিকপাড়া গ্রামের মো. মঞ্জুর হোসেনের ছেলে মো. কামরুল হোসেনের বাগবিতণ্ডা হয়। তোরাই মোড় এলাকায় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে কামরুল ধারালো চাকু দিয়ে শরিফুলের ওপর হামলা করেন।
এ সময় শরিফুলের শরীরে একাধিক আঘাত লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই তোরাই মোড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সুযোগ বুঝে ঘাতক কামরুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করেন। খবর পেয়ে রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘মাত্র ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার পরপরই নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে।’
তিনি আরও বলেন, মূল অভিযুক্ত কামরুলকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। দ্রুতই তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ।
এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সামান্য টাকার বিরোধে প্রকাশ্যে একজনের প্রাণহানির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


