পরিবেশ সুরক্ষায় এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে নগদ টাকা লেনদেনে পলিথিন ও কাগজের খামের বদলে পাট ও কাপড়ের তৈরি ব্যাগ ব্যবহার শুরু করেছে এনআরবিসি ব্যাংকের ভৈরব শাখা।
চলতি আগস্ট মাস থেকে শাখাটির ক্যাশ কাউন্টারে লেনদেনকারী গ্রাহকদের হাতে কাগজের খামের পরিবর্তে দেশীয় সোনালি আঁশের তৈরি পুনঃব্যবহারযোগ্য এসব সুদৃশ্য ব্যাগ তুলে দেওয়া হচ্ছে। শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন ব্যাংকিং’ বা সবুজ ব্যাংকিং ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওয়ান-টাইম ব্যবহারযোগ্য পলিথিন ও কাগজের খাম দ্রুত ডাস্টবিনে গিয়ে প্লাস্টিক দূষণ বাড়ায়। সেই ক্ষতিকর প্রভাব কমানো এবং প্লাস্টিকনির্ভরতা দূর করাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য।
উদ্যোগটির বিষয়ে এনআরবিসি ব্যাংকের ভৈরব শাখা প্রধান রকিবুল হাসান জানান, প্রথাগত লেনদেনের প্রচ্ছদ বদলে গ্রাহকদের পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা মনে করিয়ে দিতেই এই ব্যবস্থার প্রচলন করা হয়েছে।
এনআরবিসি ব্যাংকের সিলেট অঞ্চলের প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আরিফুর রহমান বলেন, একটি সামাজিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিবেশের প্রতি ব্যাংকের যে দায়বদ্ধতা রয়েছে, তা পালনের লক্ষ্যেই ব্যাগের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা পৌঁছানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই চর্চা সার্বিক প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিতে রূপ নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে, ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টার থেকে লেনদেন শেষে পাট ও কাপড়ের ব্যাগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন স্থানীয় গ্রাহকেরা।
ব্যাংকের গ্রাহক মেহেদী পারভেজ জানান, পূর্বে কাগজের খাম বা পলিথিন সামান্য সময় ব্যবহারের পর ফেলে দিতে হতো। তবে ব্যাংকের দেওয়া এই টেকসই পাটের ব্যাগটি মার্জিত ও পুনঃব্যবহারযোগ্য হওয়ায় এটি এক দারুণ অনুভূতির সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় পরিবেশবিদ ও সুশীল সমাজের মতে, ক্ষতিকর পলিথিনের ব্যবহার কমিয়ে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী সোনালি আঁশের ব্যবহার বাড়াতে স্থানীয় এই ক্ষুদ্র প্রয়াস এক দায়িত্বশীল উদাহরণ তৈরি করেছে। এই ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও প্লাস্টিক দূষণ রোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


