বিদেশে গিয়ে অল্প কয়েক দিনের মধ্যে ফিরে এলে, কিংবা বহু বছর পর–উড়োজাহাজ থেকে ঢাকার মাটি চোখে পড়ার মুহূর্তটি অনেকের কাছেই এক ধরনের নীরব আবেগ তৈরি করে। পরিচিত শহর, নদী আর জনপদের ওপর দিয়ে তাকালে বুকের ভেতরে এক অদ্ভুত টান অনুভূত হয়। এই অনুভূতি ব্যক্তিগত হলেও তা প্রায় সবার মধ্যেই কমবেশি কাজ করে। প্রায় ১৭ বছর পর তারেক রহমানের ফিরে আসার দিনটিও ছিল তেমনই। ঢাকার আকাশ সেদিন কুয়াশায় ঢাকা ছিল, অনেকটা লন্ডনের মতো। ভাষণে তিনি বলেননি, দীর্ঘ সময় পর দেশের মাটি প্রথম দেখার মুহূর্তে তার অনুভূতি কী ছিল। কিন্তু কিছু অনুভূতি শব্দে না বললেও প্রকাশ পায় আচরণে। জুতা-মোজা খুলে ঘাসে পা…
Author: জসীম আহমেদ
গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে বাংলাদেশের অনেক মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন। এরপর ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিলে বহু মানুষ এটা বিশ্বাস করেছিলেন যে, এই রাষ্ট্র অন্তত নাগরিকদের মৌলিক অধিকারকে সম্মান দেখাবে। বিশেষ করে বাকস্বাধীনতার বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি জনসাধারণকে আশ্বস্ত করেছিল। তারা ভেবেছিলেন, শেখ হাসিনার আমলে দেখা স্বৈরাচারী শাসনের অন্ধকার দিনগুলো বুঝি আর ফিরে আসবে না। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, সাধারণ মানুষের সেই আশা ম্লান হতে বেশি সময় লাগেনি। আমরা যারা গণমাধ্যমে কাজ করি, তারা প্রায়ই আলোচনা করতাম যে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নেতৃত্বে পরিচালিত প্রশাসনের অধীনে আগের সরকারের আমলে দেখা দমন-পীড়ন,…
দীর্ঘকাল ধরে ভারত-ঘেঁষা ও পাকিস্তান-ঘেঁষা—এই দুই বিপরীতমুখী বয়ানে প্রভাবিত হয়ে আসছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। কিন্তু সম্প্রতি সামরিক বাহিনী-সংশ্লিষ্ট দুটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এই পুরনো উত্তেজনাকে নতুন করে জনগণের সামনে এনেছে। এর মধ্যে একটি পোস্টে ভারতের ইস্টার্ন কমান্ড ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয়কে কেবল ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের ফল হিসেবে তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর একটি পোস্টে ১৯৭১ সালের নৃশংসতার সঙ্গে জড়িত সৈন্যদেরকে ‘নায়ক’ হিসেবে জাহির করা হয়েছে। তবে, বিশ্লেষকরা বলছেন, এর চেয়েও বেশি বিস্ময়কর হলো বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর নীরবতা। তাদের যুক্তি, এই নীরবতা শুধু কৌশলগত সাবধানতা নয়, বরং দেশের নিজস্ব জাতীয় বয়ানের প্রতি গভীর উদাসীনতারও প্রতিফলন। হার্ভার্ড ও লন্ডন স্কুল…
হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এই সময় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে জল্পনা-কল্পনার ঢেউ উঠেছে। আলোচনার কেন্দ্রে একটি সহজ কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ প্রশ্ন, লন্ডনে নির্বাসনে থাকা পুত্র বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কি দেশে ফিরবেন? আর যদি না ফেরেন, তার কারণ কী? তারেক রহমানের একটি সংক্ষিপ্ত, সতর্ক শব্দচয়নে লেখা সামাজিক মাধ্যমের পোস্টের পর এই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘যেকোনো সন্তানের মতো, এই সংকটকালে আমিও মায়ের স্পর্শ অনুভব করতে চাই।’ তবে তিনি যোগ করেন, অন্য সবার মতো তার কাছে ‘কেবল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে কাজ করার অবাধ স্বাধীনতা’ নেই। তিনি এও বলেন, ‘এই সংবেদনশীল বিষয়ে’ বিস্তারিত কিছু…
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক তৎপরতা দেখা দিয়েছে। ঢাকা-কেন্দ্রিক রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত সক্রিয় হচ্ছে। একই সঙ্গে নীরবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করছে দেশ দুটি। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরই এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও বঙ্গোপসাগরজুড়ে প্রভাবের ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। কূটনীতিকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপান্তর এখন ওয়াশিংটন ও দিল্লির উভয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে উঠে এসেছে। একাধিক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ভারত আড়ালে প্রচেষ্টা আরও জোরদার করেছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা, জঙ্গিবাদ পুনরুত্থানের ঝুঁকি এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত…
দ্রুত সম্প্রসারণের এক নতুন ধাপে প্রবেশ করছে ভারতের সামুদ্রিক খাত। এর অংশ হিসেবে দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ড ভারতের বন্দরে লজিস্টিকস ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত পাঁচ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত তিন দশকে কোম্পানিটি ভারতে প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এর সঙ্গে এই নতুন ঘোষণা দেখিয়ে দিচ্ছে ভারত তার বন্দর ও সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থা আধুনিক করার জন্য কতটা আগ্রহ নিয়ে আন্তর্জাতিক বন্দর অপরেটরদের চেয়েছে। এর বিপরীতে বাংলাদেশ নীতিগত বিতর্ক এবং থমকে যাওয়া সংস্কারের মাঝেই আটকে আছে। বছরের পর বছর ধরে আন্তর্জাতিক অপারেটরদের চট্টগ্রাম বন্দরে আনার সরকারি আলোচনা সত্ত্বেও কোনো বড় অগ্রগতি হয়নি। এই বন্দরটি বাংলাদেশের ৯০ শতাংশেরও বেশি বৈদেশিক বাণিজ্য…
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালাবদল আরও তীব্র হয়েছে। আবারও এই সংকটের কেন্দ্রে চলে এসেছে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি। শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকার প্রকাশ্য আহ্বান আবারো এই অঞ্চলে প্রথাগত কূটনীতির সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেছে। এই এলাকায় বক্তৃতা-বিবৃতি নয়, সবকিছুর ফলাফল নির্ধারণ করে ভূ-রাজনীতির কৌশলগত স্বার্থ। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ফেসবুকে দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দুই দণ্ডিত আসামি ফেরতের আহ্বান জানিয়েছে। আর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় করেছে প্রেস ব্রিফিং। এটি অনেক কূটনীতিকের কাছেই অপ্রত্যাশিত মনে হয়েছে। কারণ নয়াদিল্লি রাজনৈতিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিকে বৈধ কূটনৈতিক যোগাযোগ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। সামাজিক মাধ্যমের বিবৃতিকে তো একেবারেই না। ভারতের কাছে শুধু…
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তিন মামলায় পরোয়ানা জারি হওয়া সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার, আদালতে হাজির করাসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গে সম্প্রতি বেশকিছু বক্তব্য দিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। বাংলাদেশের আইনি এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার এসব মন্তব্য বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নকে সামনে আনছে। যা বিচারিক প্রক্রিয়া এবং প্রসিকিউটরের বক্তব্যের এখতিয়ার নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে সংশয় সৃষ্টি করেছে। এই সংশয় শুধুমাত্র তার বক্তব্যের ধরনের কারণে নয় বরং তার বক্তব্যের নিগূঢ় তাৎপর্য থেকেও সৃষ্টি হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই তা বিচার প্রক্রিয়ার ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে; বিশেষত সেই বিচার প্রক্রিয়া যার সঙ্গে জড়িয়ে আছেন সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। চিফ প্রসিকিউটরের সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরছে।…
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রায় দুই দশক পর দেশে ফেরার প্রস্তুতিতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, নভেম্বর অথবা ডিসেম্বরের মধ্যভাগে দেশে ফিরতে পারেন তারেক রহমান। দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাসিত থাকার সময়েই আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ কাটিয়ে তারেক রহমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক ইউনিট থেকে দেশে ফেরার বিষয়ে ‘সবুজ সংকেত’ পেয়েছেন বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে। নাম প্রকাশে অপরাগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘তারেক রহমান দেশে ফিরলে, সরকার তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’ ‘আমাদের যা কিছু করণীয়, তা আমরা করব। বিএনপির যেকোনো দাবি পূরণ করা হবে,’ বলেন…
আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বে শেখ হাসিনার জায়গায় তার পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় ও কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের স্থান গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। বিবিসি বাংলার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা তার ছেলে জয় এবং কন্যা পুতুলকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তটি ভারতের কংগ্রেস নেতা রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর রাজনীতিতে আসার সাথে তুলনা করা হচ্ছে, যেখানে তাদের পারিবারিক প্রভাব রাজনৈতিক দলে সুদৃঢ় ভূমিকা রেখেছে। তবে রাহুল-প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদের তুলনা অনেকটাই সীমাবদ্ধ। কারণ ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বাংলাদেশ থেকে অনেকটা আলাদা। ভারতে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অনিয়মের বড় অভিযোগ…

