বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও অনিশ্চয়তার আবহ। নির্বাচন কমিশন পুরোনো পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করলেও জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ফেব্রুয়ারির ভোট অনুষ্ঠান নিয়ে আপত্তি না জানালেও দিচ্ছে নানা শর্ত। তাদের দাবি, ভোট হতে হবে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর (প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে। কিন্তু সকলেই জানেন, পিআর পদ্ধতি চালু করতে হলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসদ না থাকায় তা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ দাবির অন্তরালে রয়েছে মূলত নির্বাচনের তারিখ পেছানোর আকাঙ্ক্ষা। আর এ ক্ষেত্রে ঐকমত্য কমিশনকে সম্মত করে সরকারকে দিয়ে ‘গণভোট’ করাতে চায় দলগুলো। একে কালক্ষেপনের চেষ্টা মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নির্বাচন কমিশন…
Author: জসীম আহমেদ
গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মী, বিশেষ করে এর সভাপতি নুরুল হক নুরের উপর হামলার পর রাজধানী থেকে জেলা শহরে বিভিন্ন প্রতিবাদ মিছিলে শোনা যাচ্ছে একটি স্লোগান, ‘নো মোর মিলিটারি, ব্যারাকে ফের তাড়াতাড়ি।’ এই কলরব কেবল রাজপথে নয়, ধ্বনিত হচ্ছে সুশীল সমাজের মধ্যেও। শিক্ষক, আইনজীবী, সাংস্কৃতিক কর্মী—অধিকাংশই এখন মনে করছেন, সেনাবাহিনীর ভূমিকা দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্যেই সীমিত থাকা উচিত; জনজীবনের প্রতিদিনের রাজনীতিতে নয়। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানও একাধিকবার বলেছেন, তার সৈনিকদের স্থায়ী ঠিকানা ব্যারাক, রাজপথ নয়। তিনি বারবার উচ্চারণ করেছেন, ‘দেশে গণতন্ত্রের উত্তরণ ঘটালে সেনাবাহিনী স্বস্তির সাথে ব্যারাকে ফিরবে।’ কিন্তু বাস্তবতার চাপে এই প্রত্যাশা যেন দীর্ঘ হওয়ার পথে। দেশজুড়ে এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যত…
বরিশালের উজিরপুরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ কর্মীর গ্রেপ্তার ও কারাবাস—প্রথম দর্শনে হয়তো নিছক একটি আঞ্চলিক খবর। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি সম্পর্কে অবহিতদের কাছে এটি এক পুরনো রোগের পুনরাবৃত্তি; রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে রাজনৈতিক নেতাদের সমালোচনা দমনের প্রবণতা। পুলিশ জানায়, ৫০ বছর বয়সী শওকত বালী ওরফে শাওন, যিনি স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার হন। তবে তারেক রহমানকে কটূক্তির অভিযোগে নতুন কোনো মামলা হয়নি; পরিবর্তে বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের একটি পুরনো মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই ঘটনাকে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে আরেকটি বিষয়—তারেক রহমান এখনো রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেননি। অথচ…
এক বছর আগে আজকের এই দিনে, শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। একই সঙ্গে পতন হয়েছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো রাজনৈতিক দলের। আর এই দলটিই প্রতিনিধিত্ব করেছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী শক্তি হিসেবে। তবে ইতিহাসের এই ট্র্যাজেডিক পতনের সূচনা বেশ আগেই। দলের ভেতরে গণতন্ত্র ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়ে পড়াতেই দুর্নীতি আর লুটপাটের তরিকায় বোনা হয়েছিল পতনের বীজ। পতনের এক বছরে দলটির নেতা-কর্মীরা বিদেশে আত্মগোপন করেছেন, তাদের সমর্থকরা দেশে নিগৃহীত হয়েছেন, আর দলের বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিক শ্রেণির অনেকেই মূল্য দিচ্ছেন তাদের অতীত ভূমিকার, তারা একই সঙ্গে খুইয়েছেন সব আর্থিক ও সামাজিক প্রতিপত্তি। এই একবছরে আওয়ামী লীগ বা এর কোনো নেতা এমন…
একটি রায়। একটি মাত্র রায় দিয়েই গণতন্ত্রের জমিনে বপন করা হয়েছিল একচ্ছত্র ক্ষমতার বিষবৃক্ষ। দেশের মানুষের মনে এখনো জ্বলমান—২০১০ সালের দারুণ দহনবেলায় তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে যে রায় দিয়েছিলেন, সেটিই হয়ে ওঠে দেড় দশক ধরে চলা গণতন্ত্রের নামে স্বৈরশাসনের আইনগত সূচনাবিন্দু। বিচারপতি খায়রুলের রায়ের ভাষ্য ছিল অনেকটা এরকম, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সামরিক শাসকের চাপিয়ে দেওয়া বিধান।’ কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। এই ব্যবস্থা ছিল হলো ১৯৯০ এ সেলিম-দেলোয়ার-নূর হোসেনের রক্তের বিনিময়ে স্বৈরাচার এরশাদকে উৎখাতের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত ফসল। খায়রুল হকের সেই রায় শুধু ইতিহাসবিচ্যুতি নয়, বরং ক্ষমতার একচ্ছত্র অধিপতি হওয়ার জন্য শেখ হাসিনাকে…
১৯ জুলাই, ২০২৪। ইতিহাসের এই দিনে ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে সেদিন হোঁচট খেয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার, সারাদেশে নামিয়েছিল সেনাবাহিনী। সেদিন গুলিতে ঝরেছিল বেশ কিছু তাজা প্রাণ। তবে ঠিক দুই সপ্তাহ পর, ৩ আগস্ট সেনা প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বক্তব্য দেন, যা ছিল এক নতুন আশাবাদের সূচনা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘সমস্যাটা রাজনৈতিক, এর রাজনৈতিক সমাধান হতে হবে। সেনাবাহিনী রাজনৈতিক উপকরণ হবে না।’ সেনা প্রধানের ওই ঘোষণা যেন ছিল রাষ্ট্র ও জনগণের মাঝে সুস্পষ্ট লক্ষণরেখা দাগিয়ে সেনাবাহিনীর অবস্থান স্পষ্ট করার প্রয়াস। তখন প্রমান হয়েছিল, অতীতের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সেনাবাহিনী জনগনের হতে পেরেছে। কিন্ত এক বছরের মাথায় সেই বিশ্বাসে চিড় ধরিয়েছে…
এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার চরিত্র নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। গত বছর এই দিনে—১৬ জুলাই ২০২৪—দেশের রাজপথে ছাত্রমিছিলে গুলি চালিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেই ছাত্র নেতাদেরই গঠন করা রাজনৈতিক দল—জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বুধবার তাদের নেতৃত্বেই শেখ হাসিনার নিজের জেলায় অনুষ্ঠিত হলো ‘গোপালগঞ্জে জুলাই পদযাত্রা’ । কিন্তু সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়—এইবার সেই একই বাহিনী গুলি ছুড়েছে, তবে ছাত্রদের উপর নয়, বরং তারা চড়াও হয়েছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কর্মীদের লক্ষ্য করে, আর নিরাপত্তা দিয়েছে সাবেক ছাত্র নেতাদের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি বাংলাদেশের রাজনীতির এক গভীর রূপান্তরের প্রতিচ্ছবি। এক বছর আগের ঘটনার স্মৃতি এখনো তাজা—যেখানে দেশের বড় শহরগুলোতে ছাত্রদের মিছিলে জলকামান, টিয়ার গ্যাস,…
‘দেশ খুব ভালো আছে। এক বছরে আমেরিকা হয়ে গেছে, আর আমরা সবাই খুব ভালো আছি।’ এমন কথা শুনতে স্বপ্নময় মনে হয় — যেন দেশে আর কোনো শোক নেই, ক্ষোভ নেই, বেদনা নেই। মনে হয় মানুষ যেন স্বপ্নে ভাসছে, যেখানে সব পথ মসৃণ, যেখানে প্রশাসন সজাগ, আইনশৃঙ্খলা নিখুঁত, আর মানুষের মনে কোনো ভয় নেই। ক্ষুধা, দারিদ্র্য তো নেইই! কিন্তু বাস্তবতা কি আসলেই এমন? কুমিল্লার মুরাদনগরে ঘটে যাওয়া লোমহর্ষক ঘটনার ভাঙা আয়না আমাদের নির্মম বাস্তবতার সামনে দাঁড় করায়। একজন নারীকে ধর্ষণের পর বিবস্ত্র অবস্থায় নির্যাতিতর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সমাজ মাধ্যমে। চোখে না দেখলেও, কানে না শুনলেও, এই সভ্যতার মুখোশকে ছিন্নভিন্ন করে…
লন্ডন বৈঠক যেন একটি দীর্ঘ অচলায়তনের অবসান ঘটিয়ে নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিল। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এই বৈঠক কেবলই দুই শীর্ষ নেতার একান্ত আলাপচারিতা নয়, এটি নেপথ্যে রয়েছে বৃহৎ রাজনেতিক ও কূটনৈতিক মঞ্চ; আবার নেপথ্যের নেপথ্যে রয়েছে সমঝোতা, প্রতিযোগিতা ও চানক্য কৌশল। ঈদুল আজহার একদিন আগে ৬ জুন প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই নানা দিক থেকে প্রবল চাপ, সংশয় ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়। জুলাই অভ্যুত্থানের উৎস থেকে উঠে আসা এ সরকার শুরু থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ ছিল রাজনৈতিক বৈধতা ও…
‘মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়’– এটি অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদের একটি বিখ্যাত উক্তি। বলা ভাল, এটি শুধু আপ্তবাক্য নয়, এর ভেতরে রয়েছে গভীরতর দর্শন। রাষ্ট্রীয় জীবনে যদি কোনো জাতি তার স্বপ্নদ্রষ্টাকেই অপমান করে, তবে সে জাতি বোধহয় নিজের উচ্চতাও খাটো করে ফেলে। মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক ঘনীভূত হয়েছে, তা জাতির বিবেক, সম্ভাবনা ও সম্মানবোধের এক জটিল আবর্তও বটে। এ পর্যায়ে জাতির ভবিষ্যৎ কি শুধুই পরিসংখ্যান আর রাজনীতির কূটকৌশলে নির্ধারিত হবে? না কি নৈতিক সাহস ও আত্মসম্মানের ভিত্তিতে গঠিত হবে? রাষ্ট্রের মুখোমুখি এখন এই জটিল প্রশ্ন। বিশ্বে তার সুখ্যাতি ছড়িয়েছে শান্তিতে নোবেলজয়ী ব্যক্তিত্ব, ‘সোশ্যাল বিজনেস’ মডেলের…

