কোনো দেশের অপরাধীদের কীভাবে মোকাবেলা করা হচ্ছে, তা থেকে সহজেই অনুমেয় সে দেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় কুশিলবদের মূল চরিত্র। দেশ থেকে বিদেশে পাড়ি, আবারো গা ঢাকা দিয়ে দেশে অনুপ্রবেশ– অপরাধ রাজ্যের সেরাদের এমন গোপন চলাচলে ধরা পড়ে রাষ্ট্রের আঁতাত, নীরব সহমত, এমনকি অন্ধকার জগতের অমোঘ নির্দেশনাও। শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদের সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার যেন এমনই এক ‘নাটকের ভেতরের নাটকের’ পর্দার উন্মোচন। টাইমস অব বাংলাদেশের খবরে প্রকাশ, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার যখন ধরিয়ে দেওয়ার শর্তে দেশের ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর জন্য পুরস্কার ঘোষণা করে, তখন ওই তালিকার শীর্ষে ছিলেন সুবত বাইন। পরের আড়াই দশকে পুলিশ ও র্যাব হেফাজতে ‘ক্রসফায়ার’…
Author: জসীম আহমেদ
রাজনীতির ভাষা যখন যুক্তি থেকে সরে যায়, তখন শব্দ হয়ে ওঠে ছায়ার ছায়া, অভিযোগ হয়ে দাঁড়ায় আরো ধোঁয়াশা। রাজনৈতিক চশমায় প্রযুক্তি যখন আতঙ্কের—তখন স্যাটেলাইট মানেই ‘নজরদারি’, অবাধ তথ্য-প্রবাহ মানেই ‘ষড়যন্ত্র’। একবিংশ শতাব্দির সাইবার বিশ্বের যুগে এমন মনস্তত্ত্ব হাস্যকর হলেও বাংলাদেশ এই রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে কিছুটা পরিচিত। বুধবার নয়াপল্টনে ‘তারুণ্যের সমাবেশে’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ”স্টারলিংক’ ছাড়া চলেছি, ওয়াইফাই ছাড়াও চলেছি। দেশ ভালোই ছিল। ‘স্টারলিংক’ আনছেন কার জন্য? আনছেন আরাকান আর্মির জন্য। করিডোর কার জন্য, এখান দিয়ে আরাকান আর্মির মাল-মশলার জন্য। সেন্টমার্টিন কার জন্য, বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য!’ একি বললেন মির্জা আব্বাস! মহাশূন্যে ভাসমান এক বৈশ্বিক ইন্টারনেট…
ছয় ঋতুর বাংলাদেশ যেন দাঁড়িয়ে আছে এক অচেনা প্রান্তে। এখানে এখন আর বসন্ত আসে না, যেন কেবলই পাতাঝরার কাল। শুষ্ক রাজনীতির বাতাসে ঝরে পড়ে আস্থার সবুজ পাতা। যে মাটিতে একসময় বপন হয়েছিল গণতন্ত্রের স্বপ্নবীজ, সেখানে আজ ঘূর্ণায়মান ধুলো, কেবলই সংশয়। মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের চলতি সংলাপ পর্ব যেন সেই শুষ্ক ঋতুরই এক ‘প্রতীকী চিত্রনাট্য’, যেখানে প্রত্যাশার চেয়ে অনিশ্চয়তার রেখাই বেশি গাঢ়। অথচ এই সেদিনই রক্তাক্ত জুলাই অভ্যুত্থানের ভেতর থেকে সূচিত হওয়া এ সরকারের যাত্রা ছিল ‘নতুন দিনের প্রতিশ্রুতির’ দীপ্তিতে উদ্ভাসিত। কিন্তু ৯ মাসেই যেন অবিশ্বাসের স্রোতে দিকশূন্য কাগজের নৌকার মতো ভেসে যেতে বসেছে সে সব ‘প্রতিশ্রুতি’। নির্বাচন কবে হবে– এই…
মাত্র গত বছরের আগস্টের কথা। তিনি এলেন আশার প্রতীক হয়ে। মাত্র দশ মাসের মাথায় তার চারপাশে জমছে অনিশ্চয়তার কুয়াশা। অস্থায়ী সরকারের প্রধান হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক’দিন আগে অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছিলেন সামরিক বাহিনী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলসহ সকলের। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাসহ সাধারণের হৃদয়ে ছিলেন শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসায়। কিন্তু আজ সব বেসুরে লাগছে। দেশজুড়ে স্থিরতার যে স্বপ্ন তিনি বুনেছিলেন, যে পরিবর্তনের জন্য সবাই একটি তাঁবুর নিচে এক হয়ে এসেছিলেন; তার খুঁটিই আজ বড্ড নড়বড়ে। গত রাতে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্তের ইংগিত। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানান, ড. ইউনূস তাকে বলেছেন: ‘আমি যদি কাজ করতে…
প্রায় তিন দশক আগের ঘটনা। ১৯৯৬ সালের মে মাস। মাত্র কিছুদিন আগে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে গঠিত হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে এই সরকার ১২ জুন একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সর্বদলীয় নির্বাচনের আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত। ১৫ ফেব্রুয়ারির একদলীয় নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক বিতর্কের পর ষষ্ঠ সংসদে তড়িঘড়ি করে পাশ হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল। এতে নির্বাচনকালীন সময়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রপতির অধীনস্থ করা হয়। সে সময় রাষ্ট্রপতি ছিলেন বিএনপি-সমর্থিত আব্দুর রহমান বিশ্বাস, যিনি একইসঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মেয়াদ শেষ হওয়ার দু’বছর আগে নিয়োগ পাওয়া সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবু সালেহ মোহাম্মদ নাসিম তখনও দায়িত্বে রয়েছেন। নির্বাচনকালীন সময়ে…
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যা মামলার আসামি, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ব্যাংককের ফ্লাইটে দেশত্যাগের পর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে: ১. আইন কি সকলের জন্য সমান? ২. অনেকটা ‘প্রকাশ্যেই’ আব্দুল হামিদের দেশত্যাগের দায় কার? শেষ পর্যন্ত শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ও এ নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জুলাই অভ্যুত্থানের হত্যা মামলার আসামি আব্দুল হামিদের দেশত্যাগের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা নিতে ‘সরকার বদ্ধপরিকর’। সরকারি ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও হত্যা মামলার আসামি আবদুল হামিদের বিদেশ গমন সম্পর্কে জনমনে ক্ষোভ বিষয়ে সরকার অবগত। এ ঘটনার সাথে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকার বদ্ধপরিকর রয়েছে।’ টাইমস…
ড্রোন প্রযুক্তি এখন আর শুধু ‘পাখির চোখে দেখা’ ক্যামেরাবাজি নয়, এটি এখন গোয়েন্দা নজরদারির স্তর পেরিয়ে হয়ে উঠেছে আধুনিক যুদ্ধের ভয়ংকর মারণাস্ত্র–আনম্যান্ড এরিয়েল ভেহিকেল (ইউএভি)। এরমধ্যে আবার সবচেয়ে আতঙ্কজনক উদ্ভাবন–কামিকাজে ড্রোন। এটি ‘সুইসাইড মিশনের’ মতো এমন এক আত্মঘাতী অস্ত্রবাহক, যা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে আঘাত হানে তো বটেই, বিস্ফোরণে নিজেকেও ধ্বংস করে। ভারত-পাকিস্তান সাম্প্রতিক সীমান্ত সংঘাতে নতুন করে আলোচনায় এনেছে ‘কামিকাজে ড্রোন’কে। ‘কামিকাজে’ শব্দটি এসেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জাপানি বৈমানিকদের কাছ থেকে, যারা শত্রুপক্ষের ঘাঁটিতে আত্মঘাতী হামলা চালাতেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধিভুক্ত হওয়াই দ্বীপপুঞ্জের নৌ ও বিমান ঘাঁটি ‘পার্ল হারবারে’ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় (১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর) কামিকাজে বৈমানিকরা ‘সুইসাইড মিশনে’ হামলা…
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিচার সংস্কার, নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কারের বিষয়গুলো। এটি রাজনৈতিক বাস্তবতায় স্বাভাবিক। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের টানা ১৫ বছর ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিচারহীনতা রাষ্ট্রকে যে গভীর সংকটে ফেলেছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য একটি অন্তর্বর্তী কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, সাধারণ মানুষ এসব সংস্কারের উদ্যোগ কতটা অনুভব করছেন? অভিজ্ঞতা বলছে, সংস্কারের এসব গুরুতর বিষয় শুধুমাত্র বরাবরই উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় সীমাবদ্ধ থেকে গেলে তা সাধারণের কাছে বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। জনগণ চায় হাতে কলমে দৃশ্যমান সংস্কার বা পরিবর্তন, যা তাদের জীবনযাত্রাকে সরাসরি প্রভাবিত…
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দীর্ঘদিনের সহিংসতা এখন নতুন মাত্রা নিতে পারে। রাখাইনে কৌশলগত পুনর্বিন্যাসের মার্কিন পরিকল্পনা রয়েছে বলে বিভিন্ন নিরাপত্তা বিশ্লেষণী সংস্থা দাবি করছে। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়ার মধ্যে রয়েছে, সেখানে জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে স্বায়ত্ত্বশাসিত ক্ষুদ্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। এ প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে যে জটিল ভূ-রাজনীতি দেখা দিয়েছে, তাতে বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে, এ প্রশ্নও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক বিশ্লেষক মাইকেল মার্টিনসহ কয়েকজন বিশেষজ্ঞের বিশ্লেষণ বলছে, আরাকান, কাচিন এবং কারেনি– মিয়ানমারের এই তিন সীমান্ত রাজ্যে স্বঘোষিত ‘জনতার সরকার’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পশ্চিমা শক্তি নীরবে এই নতুন বন্দোবস্তকে সমর্থন দিচ্ছে। এর নেপথ্য কারণ দু’টি– এক. মিয়ামারের সামরিক জান্তাকে দুর্বল করা ও দুই. রাজনৈতিক…
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘সংস্কার’ শব্দটির যেন এক অদ্ভুত চক্রবৃত্তি রয়েছে। নির্দিষ্ট সময় পর পর দেশের শাসন ব্যবস্থায় কিছু মুখ বদল হয়, প্রশাসনিক কিছু পরিবর্তন ঘটে, নতুন কিছু আইনি সংস্কারের কথা বলা হয়—আর একে নাম দেওয়া হয় ‘সংস্কার’। অবশ্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের টানা বছর পনেরর কর্তৃত্ববাদী সরকার ছিল এ হিসেবের বাইরে, তখন রাষ্ট্র থেকে শুরু করে প্রশাসনের ভিন্ন স্তরে মুখ ও মুখোশগুলো ছিল যেন অবকল একই। তবে বাস্তবতা হলো, এসব সংস্কার যতটা রাজনৈতিক রূপ নেয়, তা নাগরিক চেতনায় ঠিক ততটা দাগ কাটতে পারে না। সাম্প্রতিক সময়ের কথাই ধরা যাক। নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বধীন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলছে, প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে…

