বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা রাজনীতির সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে চাই। ব্যবসায়ীরা যেন রাজনীতিবিদদের কাছে না যান, বরং রাজনীতিবিদরাই ব্যবসায়ীদের কাছে যান।’
তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি, সময় নষ্ট করব না। ক্ষমতায় যাওয়ার পর ধারাবাহিকভাবে সিদ্ধান্ত আসবে। হাসিনার পতনের পর মানুষের মনোজগতে পরিবর্তন এসেছে, এখন মানুষের আকাঙ্ক্ষা আকাশচুম্বী। রাজনীতিবিদদের তা বুঝে নিয়ে কাজ করতে হবে।’
শনিবার রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিভাগীয় ব্যবসায়ী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমীর খসরু বলেন, ‘ঢাকায় বসে শিল্প ও কৃষিনীতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, কিন্তু যাদের জন্য সেই সিদ্ধান্ত, তাদের সঙ্গে সংযোগ থাকে না। আমরা সেই প্রথা থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। দলের পক্ষ থেকে সব বিভাগে যাচ্ছি, তাদের কথা শুনছি ও বোঝার চেষ্টা করছি। আমরা প্রশ্নবিদ্ধ হতে চাই না, বরং জনগণের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘কৃষি ক্ষেত্রে শিক্ষিত তরুণদের আগমন ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে। তাদের আধুনিক জ্ঞান, প্রযুক্তি ও দক্ষতার সুযোগ বাড়াতে হবে।’
বিএনপি নেতা বলেন, ‘বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা হবে। কর্মসংস্থান ও চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে। অর্থনীতিকে গণতন্ত্রীকরণ করে প্রত্যেক নাগরিককে সমান সুযোগের আওতায় আনব।’
তিনি বলেন, ‘কুটির শিল্পকে বড় শিল্পে রূপান্তরিত করতে হবে। কামার, কুমার, শীতলপাটি প্রস্তুতকারীদের জন্য বাজেটে বড় বরাদ্দ থাকবে। তাদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট, ডিজাইনিং সাপোর্ট ও ব্র্যান্ডিং নিশ্চিত করা হবে, যাতে তাদের পণ্যের দাম বাড়ে। আমরা থাইল্যান্ডের “ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট” মডেল অনুসরণ করতে চাই।’
আমীর খসরু বলেন, ‘ডিরেগুলেশনের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে আনা হবে। যত কম অফিসে যেতে হয়, তত দুর্নীতি কমবে। সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে জনগণকে ক্ষমতায়ন করতে চাই। আগামী ১৮ মাসে ১ কোটি চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা হবে, কল সেন্টার ও ডেটা সেন্টারসহ বিভিন্ন খাতে।’
তিনি বলেন, ‘ঢাকা-কেন্দ্রিক উন্নয়ন থেকে বেরিয়ে এসে অঞ্চলভিত্তিক ক্ষমতায়ন করতে হবে। উন্নয়ন করব, তবে মেগা প্রকল্পের নামে অপচয় করব না। প্রত্যেক নাগরিককে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রাখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতির সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। এখন জোর করে একটি মতামত জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ঐকমত্য কমিশনের সই হওয়ার পরও নতুন দাবি তোলা হচ্ছে। কমিশনের দায়িত্ব মতামত চাপানো নয়, বরং জাতীয় ঐকমত্য রক্ষা করা।’
অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি লুতফর রহমানসহ বিভাগের ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


