জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দশদিনের নির্বাচনী সফর শুরু করতে যাচ্ছে। সোমবার থেকে ‘জুলাই শহীদ’ ওয়াসিমের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে এনসিপির এই নির্বাচনী পদযাত্রা শুরু হচ্ছে।
দলটির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া রোববার রাতে বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী দলীয় কার্যালয়ের সামনে নির্বাচনী পদযাত্রার শুরুতে সাংবাদিকদের সাথে আলোচনা করার সময় এ কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘এনসিপির পক্ষ থেকে দশদিন ব্যাপী নির্বাচনী সফরে দলের প্রার্থীদের আসনগুলোতে ছাড়াও যে গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে এনসিপি শক্তিশালী, সেখানে আমরা পথসভা করব। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এগারো দলীয় জোটের পক্ষে আমরা ৩০ আসনে নির্বাচন করছি। সোমবার শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারতের মধ্যে দিয়ে আমরা নির্বাচনী জনসংযোগ শুরু করব। আমাদের প্রচারণার মূল লক্ষ্য হচ্ছে সুশাসন, সংস্কার ও সার্বভৌমত্ব। এছাড়া হ্যাঁ ভোট জয়যুক্ত করার জন্য আমরা প্রচারণা করব। পথসভায় আমরা কেমন বাংলাদেশ দেখতে চাই এবং আমাদের ইশতেহারের বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করা হবে। আমরা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আমাদের ইশতেহার প্রকাশ করব।’

নির্বাচনে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দলটির মুখপাত্র আরও বলেন, ‘আমরা প্রভাব বিস্তারের শঙ্কায় রয়েছি। আদালতের উপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা আমরা দেখতে পাচ্ছি। আগে ক্ষমতাসীনরা ৪০ থেকে ৫০ জন আইনজীবী পাঠিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতো। কিন্তু বর্তমানে আমরা দেখছি বিভিন্ন আসনের প্রান্তিক এলাকা থেকে মানুষ নিয়ে এসে মব ক্রিয়েট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচন যাতে করতে না দেওয়া হয়, সেই বিষয়ে আমরা আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি।’
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ সাংবাদিকতা স্বাধীনভাবে কাজ করবে। কিন্তু একটা রাজনৈতিক দলের দলীয় প্যাডে বিভিন্ন পত্রিকা এবং টেলিভিশনের সাংবাদিকদের নাম আসছে। স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য দলীয় প্যাডে নাম আসাটা আশঙ্কাজনক। বিজ্ঞাপনের মোড়কে একটি দলের প্রচারণা চলছে। এইখানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকার আশঙ্কা করছি। যদি মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন আকারে দলীয় প্রচারণা করার সুযোগ থাকে, তাহলে শাপলা কলি ও দাঁড়িপাল্লাসহ সকল দলকে সুযোগ দেওয়া হোক।’
সাবেক এই সমন্বয়ক আরও বলেন, ‘আমরা এই পদযাত্রার মাধ্যমে জোটের সকল দলের প্রার্থীদের পক্ষেই কাজ করব। আমরা একসাথে একদিকে না গিয়ে বিভিন্ন দিকে আমাদের ভয়েস ছড়িয়ে দেওয়ার চিন্তা করেছি। আমরা আমাদের দলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি জোটের প্রার্থীদেরও প্রচারণা করব।’
এসময় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন, মুখ্য সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলামসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


