বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হলে সরকারকে ক্রীড়া খাতকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। খেলাধুলার মাধ্যমে ক্যারিয়ার গঠন সম্ভব এবং এতে তরুণদের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। স্পোর্টসকে পেশা হিসেবে নেওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হলে পরিবার পরিচালনা, আয় বৃদ্ধি এবং জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব হবে।’
রোববার চট্টগ্রামে তামিম ইকবালের সঞ্চালনায় ‘ফিউচার অব স্পোর্টস ইন চিটাগাং’ শীর্ষক উন্মুক্ত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
আমীর খসরু বলেন, ‘যত বেশি তরুণ খেলাধুলায় যুক্ত হবে, তত বেশি কার্যক্রম ও অর্থনৈতিক লেনদেন বাড়বে। দর্শক যখন টিকিট কেটে খেলা দেখবে, তখন অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি আসবে। জনপ্রিয়তা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পোর্টস ইকোনমিও বড় হবে। স্পোর্টস ইকোনমি বিস্তৃত হলে কর্মসংস্থানও বাড়ে, যেখানে অসংখ্য মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হয়।’
খসরু আরও বলেন, ‘খেলাধুলা একটি বড় সফট পাওয়ার। ক্রিকেট ও ফুটবলের মতো খেলায় দেশের সাফল্য আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের পরিচিতি বাড়ায়। বিএনপি নির্বাচিত হলে ক্রীড়া খাত নিয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।’
তিনি জানান, চট্টগ্রামে মাঠের স্বল্পতা কাটাতে নগরের ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ইতোমধ্যে ১১টি ওয়ার্ডে মাঠ তৈরি করা হয়েছে এবং বাকি ওয়ার্ডগুলোতেও দ্রুত মাঠের ব্যবস্থা করা হবে। সুইমিং, শুটিং, আর্চারি, ব্যাডমিন্টনসহ সব ধরনের খেলাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে বড় ধরনের বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। লক্ষ্য শুধু চাকরি সৃষ্টি নয়, খেলাধুলার মাধ্যমে আয় করার ক্ষেত্র তৈরি করা।
স্পোর্টসকে রাজনীতিমুক্ত রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্রীড়াক্ষেত্রে ডিপলিটিসাইজেশন (অরাজনৈতিকীকরণ) জরুরি। সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে করপোরেট খাত ও সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে।’ চট্টগ্রামে একটি পেশাদার মানের সুইমিং পুল স্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।
চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা (সিজেকেএস) আরও পেশাদারভাবে পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, ‘দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের যুক্ত করে ক্রীড়া ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করতে হবে।’ শিগগির ক্রিকেট লিগ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘সামষ্টিকভাবে স্পোর্টস কমপ্লেক্সগুলোতে কী কী সুবিধা প্রয়োজন, তা ম্যাপিং করে সব খেলাকে এগিয়ে নেওয়া হবে। খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় সংযোজন করা হবে।’ বিএনপির রাজনীতিতে জবাবদিহিতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর ইস্রাফিল খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘স্পোর্টসের একটি বড় বাজার রয়েছে। এই বাজার গড়ে তুলতে হলে আগে ইকোসিস্টেম তৈরি করতে হবে এবং ভ্যালু অ্যাডিশনের মাধ্যমে সেটিকে টেকসই করতে হবে।’
তিনি জানান, ভবিষ্যতে ৬৪ জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে এবং এম এ আজিজ স্টেডিয়ামকে সব ধরনের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল বলেন, ‘বর্তমানে অনেক খেলোয়াড় অনুপযুক্ত পরিবেশে অনুশীলন করতে বাধ্য হচ্ছে। ক্রীড়ার পরিবেশ উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।’
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের ক্রীড়া অঙ্গন গত ১৫-২০ বছর ধরে স্থবির হয়ে আছে। এই জড়তা ভাঙতে হবে। চট্টগ্রাম যে পর্যায়ে থাকার কথা, বাস্তবে সে পর্যায়ে নেই।’
আউটার স্টেডিয়ামে একটি আধুনিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স গড়ে তুলে সব ধরনের খেলাধুলার সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান তামিম ইকবাল। তিনি বলেন, ‘সরকার গঠনের পর করপোরেট খাতের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন লিগ চালুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের ক্রীড়া সংগঠক ও বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়রা উপস্থিত থেকে প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন।


