জয়-পুতুলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

জয়-পুতুলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ
পদ্মা সেতুর ওপর তোলা শেখ হাসিনার পারিবারিক ছবি। ফাইল ফটো
Advertisement
Advertisement

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বে শেখ হাসিনার জায়গায় তার পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় ও কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের স্থান গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। বিবিসি বাংলার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা তার ছেলে জয় এবং কন্যা পুতুলকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এই সিদ্ধান্তটি ভারতের কংগ্রেস নেতা রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর রাজনীতিতে আসার সাথে তুলনা করা হচ্ছে, যেখানে তাদের পারিবারিক প্রভাব রাজনৈতিক দলে সুদৃঢ় ভূমিকা রেখেছে।

তবে রাহুল-প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদের তুলনা অনেকটাই সীমাবদ্ধ। কারণ ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বাংলাদেশ থেকে অনেকটা আলাদা। ভারতে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অনিয়মের বড় অভিযোগ নেই। কিন্তু বাংলাদেশের সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে রয়েছে বেশকিছু গুরুতর অভিযোগ, যা তাদের নৈতিক অবস্থান ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তার বিরুদ্ধে ৬০.১৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বৈধতা নিয়েও রয়েছে বিভিন্ন প্রশ্ন। এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে আওয়ামী লীগকে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে পড়তে হতে পারে।

একইভাবে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েছেন।

পাশাপাশি, ‘সূচনা ফাউন্ডেশন’-এ অনৈতিকভাবে অর্থ আদায় ও আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন

এছাড়া সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের দিল্লিতে পোস্টিং নিয়ে রয়েছে কিছু সন্দেহ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশের ক্ষমতা পরিবর্তনের আগে আওয়ামী লীগকে নিয়ে ভারতীয় কৌশলের অংশ ছিল সায়মার দিল্লিতে নিয়োগ এবং সেখানকার বাড়ির ব‍্যবস্থা করা । ভারত আগে থেকেই শেখ হাসিনার পরবর্তী আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব তৈরি করছিল।

যদিও এ ধরনের পরিকল্পনার যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তবে এটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা যেতে পারে।

শেখ হাসিনার শাসনকালে আওয়ামী লীগ একটি পারিবারিক দল হিসেবে পরিণত হয়েছে, যেখানে শেখ পরিবারের সদস্যরা দলের শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

গত দুই দশকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ শেখ পরিবার প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হয়, যেখানে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে বেশিরভাগই শেখ পরিবারের সদস্য ও তাদের আত্মীয়-স্বজন বসেছেন। প্রায় অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি শেখ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকায় জাতীয় সংসদের সদস্য হয়েছেন এবং শতাধিক ব্যক্তি সরকারি উচ্চপদে নিয়োগ পেয়েছেন।

তবে যদি সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুল যদি আওয়ামী লীগের হাল ধরেন, তখন দলটির নেতৃত্ব স্থানান্তরিত হবে গোপালগঞ্জের বাইরে রংপুরে। যদিও জয় ও পুতুলের সঙ্গে রংপুরের ঐতিহাসিক সম্পর্ক নেই, কারণ তারা মূলত নানা বাড়ি ঘেঁষা। এতে শেখ পরিবার এবং তাদের আত্মীয়-স্বজনের বলয় থেকে আওয়ামী লীগ বের হতে পারবে কিনা, তা প্রশ্নসাপেক্ষ।

এটা স্পষ্ট যে, সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ কোনো ধরনের সাংগঠনিক সংস্কারের পথে হাঁটবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। শেখ পরিবারের শাসনের দীর্ঘ সময়ের চিত্র, দুর্নীতি এবং পারিবারিক শাসন অনেকের কাছে বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে জয়-পুতুল যদি সত্যিই আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সমাধান করতে হবে। এছাড়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে শেখ পরিবারের নেতিবাচক ইমেজ ভেঙে একটি নতুন রাজনৈতিক চিত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যা খুব সহজ নয়।

সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ কী ধরনের সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে পথ চলবে তা নিশ্চিত করা কঠিন। যদি তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো সত্যি বলে প্রমাণিত হয়, তবে দলের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হতে পারে। আর তাদের নেতৃত্বে যদি আওয়ামী লীগ পুনর্গঠিত হয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সামনে এগিয়ে যায়, তবে রাজনৈতিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে কি না, তা সময়েই বলে দেবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
জসীম আহমেদ
জসীম আহমেদ

Staff Reporter, Times of Bangladesh

সম্পর্কিত খবর