কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপের সৈকতে ভেসে আসা একটি জীবিত অজগর উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা। প্রায় ১০ ফুট লম্বা সাপটি বার্মিজ প্রজাতির বলে জানিয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা। তাদের পরামর্শে অজগরটিকে সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
সাগরে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক থাকলে সাপটিকে শুক্রবার বিকালে টেকনাফ বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। এর পর এটিকে উপযুক্ত প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে দ্বীপের কয়েক শিশু সৈকতে খেলতে গিয়ে সমুদ্র থেকে একটি বড় অজগর তীরে উঠে আসতে দেখে। পরে বাসিন্দারা সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ডেইলপাড়া সৈকতের পূর্ব পাশ থেকে অজগরটিকে জীবিত উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের পরামর্শে সাপটি ইউনিয়ন পরিষদের হেফাজতে রাখা হয়।
সেন্টমার্টিন দ্বীপের বাসিন্দা তৈয়ব উল্লাহ বলেন, ‘এখান থেকে মিয়ানমারের উপকূল খুব বেশি দূরে নয়। বর্ষাকালে মিয়ানমারের পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টির পর নাফ নদী, মায়ু নদী ও কালাদান নদীতে প্রবল পাহাড়ি ঢল নামে। ওই ঢলের স্রোতে গাছপালা ও অন্য ভাসমান বস্তুর সঙ্গে বিভিন্ন বন্যপ্রাণীও সাগরে ভেসে আসে। ধারণা করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢলের স্রোতেই অজগরটি সেন্টমার্টিন উপকূলে এসে পৌঁছেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া অজগর সাপটি বার্মিজ প্রজাতির এবং এর বৈজ্ঞানিক নাম পাইথন বিভিটটাস।’
সেন্টমার্টিন বিএন ইসলামিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আয়াতুল্লাহ খোমেনি বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া অজগরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট। এর ওজন আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ কেজি এবং বয়স তিন থেকে চার বছর হতে পারে।’
সেন্টমার্টিনে পরিবেশ অধিদপ্তরের অফিস সহকারী আব্দুল আজিজ বলেন, ‘বন বিভাগের পরামর্শে অজগরটি আপাতত ইউনিয়ন পরিষদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরে নিরাপদ সংরক্ষণ অথবা উপযুক্ত স্থানে অবমুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘শুক্রবার দুপুরে ট্রলারে করে অজগরটি টেকনাফ রেঞ্জে পাঠানো হবে। এরপর বন বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’
টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া অজগরটি সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছে। শুক্রবার দুপুরে ট্রলারে করে সেন্টমার্টিন থেকে টেকনাফ নিয়ে আসা হবে। এর পর বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরে টেকনাফ সংরক্ষিত বনে উপযুক্ত আবাসস্থল দেখে অবমুক্ত করা হবে।’
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৫ জুন সেন্টমার্টিনের একটি মরিচক্ষেত থেকে প্রায় ১৫ ফুট লম্বা আরেকটি অজগর উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে সেটিকেও বন বিভাগের মাধ্যমে টেকনাফ সংরক্ষিত বনের প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হয়।


