জনতা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় ৩ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চট্টগ্রামের বিতর্কিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল আলম মাসুদসহ৬৮ জনের বিরুদ্ধে আলাদা দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার দুদকের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে এসব মামলা করেন।
দুদক চট্টগ্রাম-১ কার্যালয়ে মামলাগুলো নথিভুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির উপপরিচালক সুবেল আহমেদ।
দুদক জানিয়েছে, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে অবস্থিত জনতা ব্যাংকের সাধারণ বীমা ভবন করপোরেট শাখা থেকে এস আলম গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে এসব ঋণ অনুমোদন ও ছাড় করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় ৩২ জন এবং আরেক ৩৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
একটি মামলায় এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নামে ২ হাজার ৩২ কোটি ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ মামলায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে সাইফুল আলম মাসুদ ছাড়াও পরিচালক আব্দুল্লাহ হাসান, সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশনের এমডি রাশেদুল আলম এবং জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ মোট ৩২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়, ২০০৯ সালের ২৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৬ মার্চ পর্যন্ত সময়ে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশ করে ব্যাংকিং বিধি লঙ্ঘন করে ঋণ অনুমোদন, নবায়ন ও সীমা বৃদ্ধি করেন। পর্যাপ্ত জামানত, পরিচালকদের ব্যক্তিগত গ্যারান্টি কিংবা লিখিত পরিশোধ অঙ্গীকার ছাড়াই এই বিপুল ঋণ মঞ্জুর করা হয়।
এমনকি অনুমোদিত সীমার বাইরে এলসি খোলারও অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তে আরও উঠে আসে, বন্ধকি সম্পত্তির মূল্য ইচ্ছা করে বেশি দেখানো হয়েছে, অ্যাকসেপ্টেন্স কমিশন আদায় করা হয়নি এবং প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন ছাড়াই রিফাইন্যান্সিং সুবিধা নেওয়া হয়েছে।
ঋণের অর্থ গ্রুপের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে সিসি (হাইপো), এলটিআর, পিএডি ও আইএফডিবিসি খাতে সুদে-আসলে আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৩২ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
আরেক মামলায় এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডের নামে ২০০৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৬ মার্চ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন উপায়ে ঋণ নিয়ে ১ হাজার ১৫২ কোটি ৫১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।
এ মামলায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও সাইফুল আলম মাসুদের ভাই আব্দুস সামাদের স্ত্রী শাহানা ফেরদৌসকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসকাত আহমেদসহ মোট ৩৬ জনকে আসামি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৯ জনই জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা।
দুটি মামলাতেই আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং ২০১২ সালের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, তদন্ত কার্যক্রম চলছে এবং এ ঘটনায় আরও কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


