বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলার কৃষকদের ধানবীজ ও চারা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শতভাগ গবাদিপশুকে খুরা রোগের (এফএমডি) টিকার আওতায় আনা হবে।
শুক্রবার চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারীতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষী ও খামারিদের মাঝে ধানবীজ ও কৃষি উপকরণ বিতরণ এবং গবাদিপশুকে টিকা প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
মন্ত্রী বলেন, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমন ধানের বীজতলা। বন্যার পানি দীর্ঘ সময় জমে থাকায় অনেক বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তথ্য ইউনিয়ন ও ব্লক পর্যায়ে সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ধানবীজ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি জানান, যেসব কৃষকের বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে, তাদের দ্রুত বীজ দেওয়া হচ্ছে। আর যাদের জমি এখনও পানির নিচে রয়েছে, তাদের জন্য সরকারি উদ্যোগে ভাড়া নেওয়া জমিতে বিকল্প বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। সেখান থেকে ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে উৎপাদিত চারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বন্যার পর খুরা রোগসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ কারণে বন্যাকবলিত পাঁচ জেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শতভাগ গবাদিপশুকে টিকার আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও জানান, গোখাদ্যের সংকট মোকাবিলায় প্রথম ধাপে ৩৫ লাখ টাকার গোখাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও সহায়তা দেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, বন্যায় মাছ চাষেও কয়েকশ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে মাঠপর্যায়ে জরিপ চলছে। জরিপ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষীদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ সুবিধা বাড়াতে সারা দেশে পর্যায়ক্রমে প্রায় দুই হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। উৎপাদন এলাকার কাছাকাছি এসব সংরক্ষণাগার স্থাপন করা হবে, যাতে কৃষকরা প্রয়োজন অনুযায়ী ফসল সংরক্ষণ করে সুবিধাজনক সময়ে বিক্রি করতে পারেন।
এ ছাড়া বন্যা ও জলাবদ্ধতা কমাতে সরকারি খাল দখলমুক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় খনন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান মন্ত্রী।
এর আগে তিনি বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং বীজতলায় নিজ হাতে ধানবীজ বপন করেন। পরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে ধানবীজ, মৎস্যচাষীদের পুকুর পুনর্বাসনের উপকরণ, খামারিদের গোখাদ্য বিতরণ এবং গবাদিপশুকে এফএমডি ও পিপিআর রোগের টিকা প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


