বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রায় দুই দশক পর দেশে ফেরার প্রস্তুতিতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, নভেম্বর অথবা ডিসেম্বরের মধ্যভাগে দেশে ফিরতে পারেন তারেক রহমান।
দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাসিত থাকার সময়েই আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ কাটিয়ে তারেক রহমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক ইউনিট থেকে দেশে ফেরার বিষয়ে ‘সবুজ সংকেত’ পেয়েছেন বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে।
নাম প্রকাশে অপরাগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘তারেক রহমান দেশে ফিরলে, সরকার তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
‘আমাদের যা কিছু করণীয়, তা আমরা করব। বিএনপির যেকোনো দাবি পূরণ করা হবে,’ বলেন তিনি।
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা আশা করছি, তারেক রহমান খুব শিগগিরই দেশে ফিরে আসবেন।’
‘আগামী মাসে দেশে ফিরবেন তিনি,’ বলেন ফখরুল।
দলের আরেক শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করছি, সরকার তার জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে।’
তারেক রহমানের দেশে ফেরার জন্য, বিএনপি ইতোমধ্যেই দলের চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্সের (সিএসএফ) সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে।
বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশ্নে দলের চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে ইলাহী আকবর টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমি সিএসএফের সক্ষমতায় মোটেও সন্তুষ্ট নই। তারা এই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতে কতটুকু সক্ষম, তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে নির্বাচনের আগে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া প্রয়োজন।’
‘তারা শুধু ব্যক্তি নন, তারা জাতি সম্পদ। তাদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা দেওয়া উচিত,’ বলেন ফজলে ইলাহী আকবর।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি। তার ফিরে আসার পর তাকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে আমরা সেনাবাহিনীর সহায়তা চাইতে প্রস্তুত।’

গত বছর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তারেক রহমান আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে থাকা সব মামলায় খালাস পেয়েছেন।
তার দেশে ফেরার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছিলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই।’
বিএনপি সূত্র মতে, তারেক রহমানের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতের সঙ্গে তার রাজনৈতিক পুনরুত্থান এবং আগামী সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি জড়িত। পাশাপাশি তিনি দেশে ফেরার পর পরই বিএনপি তার রাজনৈতিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস করবে; সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এর মাধ্যমে তার নেতৃত্বে দলটি নির্বাচনী প্রচারণা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি লাভ করবে।
সূত্র মতে, তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনার সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত জাতীয় নির্বাচনের তফসিল জড়িত। এই কৌশলগত সমন্বয় আবার বিএনপির বৃহত্তর নির্বাচনী কৌশলের সঙ্গে সম্পর্কিত।
দলের নীতি-নির্ধারকরা বলছেন, বিএনপির শক্তিশালী নেতৃত্বের পাশাপাশি ভোটারদের কাছে পৌঁছানো ও নির্বাচনী প্রচারে জোয়ার সৃষ্টিতে তারেক রহমানের স্বশরীরে উপস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

ভিন্ন একটি সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তারেক রহমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
অবশ্য টাইমস অব বাংলাদেকে মির্জা ফখরুল এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি। ওই বৈঠকটি তিনি ‘ব্যক্তিগত বিষয়’ বলে অভিহিত করেছেন।
এদিকে, তারেক রহমানের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) ব্যাপারে এখনো কোনো সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিভিআইপি মর্যাদায় তারেক রহমানের সুরক্ষায় কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান তার ফিরে আসার বিষেয়ে সুনির্দিষ্ট সময় বলেননি। তবে জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচনের মাঠে সরাসরি লড়াই করতে চান।
তার ওই বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে তিনি নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার পরই দ্রুত দেশে ফিরতে চান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বলছে, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সময়ের রাজনৈতিক পরিবেশ এবং বিএনপির জনসমর্থন অর্জন করার সক্ষমতা—এ বিষয়গুলো এখনো অনিশ্চিত।
বিএনপির ভবিষ্যত সফলতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোকে মোকাবেলার সক্ষমতাও এর সঙ্গে জড়িত। এসব কারণে নির্বাচন এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তার এই প্রত্যাবর্তনকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।


